সরকারের খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে নিজের বক্তব্য একটি জাতীয় দৈনিকে ফটোকার্ডে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন সহ্য করবে না। আমরা এটা নিয়ে শক্ত অবস্থানে যাবো। আমরা ডিসইনফরমেশন বেজড ফটোকার্ড অ্যালাও করবো না। গতকাল সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে জাহেদ উর রহমান বলেন, একজন ব্যক্তি আর একটা প্রতিষ্ঠান করার মধ্যে গুরুতর পার্থক্য আছে। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, সাংবাদিকতা যেন সাংবাদিকতাই হয়। আমরা যথেষ্ট খোলা মনে আপনাদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করতে চাই। আগেও বলেছি, সরকারের সমালোচনা করার অনেক কিছু পাওয়া যাবে। শেখ হাসিনা দেশটাকে এত বাজেভাবে রেখে গেছেন যে, এই সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও সমালোচনার জায়গা তৈরি করছে। কোনো ক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থতা পাচ্ছেন-পাবেন।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গি আছে। কিন্তু এখানে দু’টি এক্সট্রিম আছে। আগের সরকার জঙ্গি সমস্যাকে ক্ষমতায় থাকার একটা ন্যারেটিভ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। বলা হতো, বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, জঙ্গিরা সব দখল করবে। সুতরাং আমি নির্বাচন করলাম কি না দেখার দরকার নেই, আমাকে ক্ষমতায় রাখো। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেউ কেউ এই আলাপ করার চেষ্টা করেছেন যে, বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই। এটাও আরেকটা এক্সট্রিম। এটাও ভুল কথা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটা পর্যায়ে জঙ্গিবাদ ছিল, আছে। সেটাকে আমরা মোকাবিলা করতে চাই। এই সতর্কতার মানে হচ্ছে, এটা খানিকটা ঝুঁকি তৈরি করেছে। কারণ দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা খেয়াল করেছি, এই প্রবণতার মানুষদের অনেক বেশি সংগঠিত হওয়া বা জনসম্মুখে আসার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। সেটারই খানিকটা প্রভাব আমরা বলতে পারি। সরকার এগুলো মোকাবিলা করবে। জনগণকে এটুকু বলতে চাই, এই ঝুঁকি এমন না যে, এটার জন্য ভয় পেতে হবে। কিন্তু আমরা যদি কোনো একটা সংকটকে বা রোগ স্বীকার না করি, ওটার চিকিৎসা হবে না। আমরা এটাকে একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করবো।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে চলতি বছরের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, এই প্রকল্প থেকে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ হবে। এতে প্রায় দুই কোটি মানুষ সুফল পাবেন। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত মাসে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বরাদ্দে ১৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান- জাহেদ উর রহমান। উপদেষ্টা বলেন, পাঁচটি নতুন ও পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সড়ক যোগাযোগ ও স্থানীয় প্রশাসন উন্নয়নমূলক এসব প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। আমরা নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। তবে জ্বালানি মূল্যের কারণে যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে। যদিও ঢাকার বাস ও মিনিবাসের সরকারি ভাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে।
এ সময় জাহেদ উর রহমান জ্বালানি তেলের মজুত ও আমদানির তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২৭ এপ্রিল ডিজেল মজুত ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৪ টন, অকটেন ৪৪ হাজার ৪৮৩ টন, পেট্রোল ১৯ হাজার ৩ টন, ফার্নেস অয়েল ৩৭ হাজার ৯৬ টন, জেট ফুয়েল ২১ হাজার ২৩৫ টন। আগামী ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে আসবে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল। তিনি বলেন, পাম্পে ভিড় যথেষ্ট কমে গেছে। তবে, এখানো অভিযান চলছে। যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি মানুষ তার ঘরে মজুত করছেন। সবাই যে ব্যবসার জন্য করছেন তা না। আমি ব্যক্তিগতভাবেও দু’একজনকে চিনি যারা এই শঙ্কা বোধ করেন, আদৌ কখনো তেল পাব কি না। তারা তেল নিজের জন্যই সংরক্ষণ করছেন। বিশেষ করে যারা রাইড শেয়ারিং করেন, তারা খুবই শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এটা করেন না। তাদের দুশ্চিন্তা আমরা বুঝতে পারি। একইসঙ্গে যে ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেটাও সংকট তৈরি করেছে। আশা করি এটা ঠিক হয়ে যাবে।
