প্রকৌশলীর বদলি আদেশ, মারধরে জড়িত ঠিকাদার ধরা পড়েনি ১৫ দিনেও

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ঠিকাদারের হামলার শিকার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলামকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। গত ২৩শে এপ্রিল তার এই বদলি আদেশ হয়। এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান এই বদলি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। অবশ্য ওই প্রকৌশলী ঘটনার পর থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

আতঙ্কে পরিবার নিয়ে নবীনগর ছেড়ে যান। তবে হামলার ঘটনায় দেয়া মামলার প্রধান আসামি লোকমান হোসেন ধরা পড়েনি গত ১৫ দিনেও। নবীনগরের মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৩ই এপ্রিল প্রকৌশলী তরিকুলকে ঠিকাদার লোকমান ও তার লোকজন বাঁশ নিয়ে ধাওয়া করে মারধর করে। এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় থানায় একটি মামলা করেন হামলার শিকার এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল। এতে লোকমান ও তার গাড়িচালক মো. বিল্লাল হোসেন ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি বিল্লালকে র‌্যাব-৯ ও র‌্যাব-৭ এবং পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের চানগাঁও এলাকা থেকে গত ১৯শে এপ্রিল রাতে আটক করে।

এর আগে ঠিকাদারের ম্যানেজার ফোরকানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু ঠিকাদার রয়েছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। প্রকৌশলী তরিকুলের দেয়া মামলার অভিযোগে বলা হয়, নিম্নমানের কাজের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে লোকমান এলাকার প্রভাব দেখান এবং অকথ্য গালিগালাজ করতে শুরু করেন।

গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে লোকমান ও তার ড্রাইভারসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তরিকুল এবং অন্য প্রকৌশলীদের লাঠি নিয়ে তাড়া করেন। এ সময় তরিকুলের পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং ইট দিয়ে ঢিল মেরে আহত করা হয়। পরে তরিকুলকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়া হয়। এলজিইডি’র কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীর বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার ওই কাজ করছিলেন মেসার্স লোকমান হোসেন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেন। কাজ শুরুর পর থেকেই কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে।

সে কারণে কাজটি দেখতে চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের কর্মকর্তা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহ আলমগীর ও আহম্মদ আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী তরুণ কুমার বৈদ্য সেখানে আসেন। তাদের সঙ্গে সেখানে যান নবীনগর এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস আলম এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান মজুমদার ও তরিকুল। তাদের সামনেই হামলা হয় তরিকুলের ওপর।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন