নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে যুবক গুলিবিদ্ধ, আহত ১৮

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাকিল মাহমুদ (৩১) নামে এক যুবদল কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হন। গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ শাকিল ছয়ানী ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির আলমগীরের ছেলে ও একই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী।

অপরদিকে আহতরা হলেন- মো. আলাউদ্দিন (৫০), মহর আলী (৫৯), তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০), ছেলে মাহফুজুর রহমান (২২), মেয়ে নাসরিন আক্তার (১৮), আলমগীর হোসেন (২৬) ও জহির (৫০)। এদিকে এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছয়ানী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি কর্মী মাসুদের ছেলে ইমন (১৯) আরেক বিএনপি কর্মী মাহফুজকে মারধর করে। গত সোমবার বিকাল ৫টার দিকে ইমন ছয়ানী বাজারে নবগঠিত কৃষকদলের আনন্দ মিছিলে যাচ্ছিলো। ওই সময় মাহফুজকে পেয়ে মারধর করে।

মিছিল শেষে বিকালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন দলীয় লোকজন নিয়ে তাহেরপুর এলাকায় গেলে সেখানে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে দুই পক্ষের ৮ জন আহত হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, মাহফুজ বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে তার বাবা মহর আলী জামায়াত করে। মাহফুজদের বাড়ির অধিকাংশ লোক জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা রাত সোয়া ৯টার দিকে মাহফুজের বাড়িতে হামলা চালায়।

পরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে যুবদল কর্মী শাকিল পাটোয়ারীর বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হন ও আলাউদ্দিনের মাথা ফেটে যায়। তখন মহর আলীর ৬ অনুসারীও আহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা শাকিলকে উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়। ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি মো. আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন-তিনি বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে মহর আলীসহ তার লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। ওই সময় স্থানীয় রাকিব নামে এক যুবক আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়। জানতে চাইলে রাকিব বলেন- তিনি পেশায় একজন পিকআপ ভ্যানচালক।

তিনি কাউকে গুলি করেননি। অভিযোগটি ডাহা মিথ্যা। বিএনপি নেতা আলাউদ্দিনের গুলি মিস ফায়ার হলে শাকিল গুলিবিদ্ধ হন। তখন রাজু মেম্বারকেও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়। ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখানে জামায়াত-বিএনপি’র কোনো সংঘর্ষ হয়নি। জামায়াতের লোকজন আমাদের মিছিলের ওপর হামলা করেছে। আমাদের দলীয় কোনো কোন্দলের বিষয় নেই এখানে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটা বিএনপি-বিএনপি করেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাদের দলের কোনো লোক এই হামলার সঙ্গে জড়িত নেই। বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন