কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান (৫৭) হত্যার ঘটনায় দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেন (১৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের তছিকুল ইসলামের ছেলে এবং ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। এর আগে সোমবার রাতে একই গ্রামের নাহারুল মণ্ডলের ছেলে বিপ্লব হোসেন (২৬) ও রবিউল ইসলামের ছেলে আলিফ ইসলাম (২৩) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পীরের দরবারে হামলার সময়ের ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাদের চিহ্নিত করা হয়। তবে গ্রেপ্তার হওয়া স্কুলছাত্রসহ ৩ যুবক কেউই পীর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি নয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ মো. আলী মর্তুজা জানান, ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে গ্রেপ্তার হওয়া তিন যুবক বিপ্লব হোসেন, আলিফ ইসলাম ও আলমগীর হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবস্থান নিশ্চিত করে মঙ্গলবার ভোরে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সোমবার রাতে বিপ্লব হোসেন ও আলিফ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পীর হত্যায় গ্রেপ্তার হওয়া স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগের রাতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবককে সোমবার বিকালে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
স্কুলছাত্র গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন বলেন, আলমগীর হোসেন তার স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। পীরের দরবারে হামলার সঙ্গে জড়িত কিনা তা তার জানা নেই।
উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ই এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এ সময় রাজিবসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দোতলা থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তাণ্ডলীলা চালায়।
হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন পর ১৩ই এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হওয়ার ১৬-১৭ দিন পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হলো।
