চ্যাম্পিয়ন্স লীগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রোমাঞ্চের অপেক্ষায় রিয়াদ এয়ার মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়াম। ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের পথে সেমির প্রথম লেগে মুখোমুখি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনাল। একদিকে দিয়েগো সিমিওনের ‘রক্ষণাত্মক’ তকমা ঝেড়ে ফেলা আক্রমণাত্মক অ্যাটলেটিকো, অন্যদিকে মিকেল আর্তেতার অপ্রতিরোধ্য ও অজেয় আর্সেনাল। হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে আজ রাত ১টায়। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ না হারা একমাত্র দল আর্সেনাল। ১২ ম্যাচে মাত্র ৫ গোল হজম করা গানারদের রক্ষণভাগ আজ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে। অ্যাটলেটিকোর হয়ে হুলিয়ান আলভারেজ একাই করেছেন ৯ গোল। তবে লীগ পর্বে ইংলিশ জায়ান্টদের কাছে ৪-০ গোলের সেই হার এখনও সিমিওনের মনে দগদগে ক্ষত হয়ে আছে।
আর্তেতার দল যখন লীগ শিরোপা ও ইউরোপ জয়ের দ্বিমুখী চাপে, তখন অ্যাটলেটিকোর জন্য এই ট্রফিই মৌসুমে শেষ সম্বল। সিমিওনে হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন, ‘আমরা পূর্ণ উদ্যম এবং বিশ্বাস নিয়ে সেমিফাইনালে নামছি। আমরা আমাদের শক্তি আর দুর্বলতা জানি। যা আমরা অনেক বছর ধরে তাড়া করছি, আজ তার পেছনেই ছুটবো।’ অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে ওঠা আর্তেতার কণ্ঠে ইতিহাসের ছোঁয়া, ‘১৪০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম আমরা টানা দু’বার সেরা চারে। এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। এটি আপনাকে অর্জন করে নিতে হবে, যার পেছনে রয়েছে প্রচুর পরিশ্রম।’ দুই শিবিরেই চোটের হানা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাবলো বারিওস ও ডেভিড হ্যানকোকে পাচ্ছে না আজকের স্বাগতিকরা। আদেমোলা লুকম্যান ও হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও বড় ম্যাচ হিসেবে তাদের ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। দলের অন্যতম সেরা তারকা আতোয়ান গ্রিজম্যানের পরিষ্কার বার্তা দিয়ে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ কে, তা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো আমরা এখনও লড়াইয়ে আছি। এটি একটি কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে।’ আর্সেনাল শিবিরে কাই হাভার্টজ ও মার্টিন জুবিমেন্ডির ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। তবে চোট কাটিয়ে ফিরছেন বুকায়ো সাকা।
ভিক্টর গায়োকেরেস আর গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ওপর থাকবে গোল করার দায়িত্ব। মার্তিনেল্লি সর্তক করে বলে রেখেছেন, ‘আমরা লীগ পর্বে জিতেছিলাম ঠিকই, তবে নকআউট পর্বে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’ ইতিহাস বলছে, এর আগে ২০১৮ সালের ইউরোপা লীগ সেমিফাইনালে এই মেট্রোপলিটানোতেই আর্সেনালকে কাঁদিয়েছিল আর্সেনাল। আর্তেতা কি পারবেন সেই প্রতিশোধ নিয়ে বুদাপেস্টের ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখতে? নাকি সিমিওনের অভিজ্ঞতা আবারও স্বপ্নভঙ্গ করবে লন্ডনের দলটির?
