সিলেট কালেক্টরেট মসজিদের দোকানের চুক্তি বাতিলের নোটিশের ওপর হাইকোর্টের দেয়া স্থিতাবস্থা অমান্য করায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি)সহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। গত সোমবার আবেদনকারী দোকান-মালিকদের দায়ের করা কনটেমপ্ট পিটিশন শুনানি শেষে হাইকোর্ট ডিভিশনের দ্বৈত বেঞ্চের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসান এই রুল জারি করেন। যাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হয়েছে তারা হলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) সৈয়দা পারভীন এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) কিশোর কুমার পাল।
গত ১২ই মার্চ হাইকোর্টের দেয়া আদেশ অমান্য করার দায়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, সিলেট কালেক্টরেট মসজিদের দোকানের চুক্তি বাতিলের নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দোকান-মালিকরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। গত ১২ই মার্চ বিচারপতি খিজির আহমদ চৌধুরী ও বিচারপতি জিয়াউল হকের বেঞ্চ উক্ত রিটের শুনানি শেষে দুই মাসের জন্য দোকানের পজিশন ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে ‘স্থিতাবস্থা’ জারি করেন। আবেদনকারীদের অভিযোগ, আদালতের এই স্থিতাবস্থার আদেশ বহাল থাকাবস্থায় গত ২৬শে মার্চ রাতের বেলা জেলা প্রশাসক প্রশাসনের মাধ্যমে দোকানগুলো তালাবদ্ধ ও সিলগালা করে দেন। এটি স্পষ্ট আদালত অবমাননা দাবি করে গত ১লা এপ্রিল আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ভুক্তভোগী দোকান-মালিকরা আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন।
আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম কাফি। আবেদনকারীদের পক্ষে মো. ইনামুল কবির চৌধুরী জানান, তারা আদালতের কাছে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে আদালতের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী দোকানের পজিশন পুনরায় মালিকদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। এই রুল জারির মাধ্যমে সিলেটের কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ন্যায়বিচারের আশা তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
