গত সপ্তাহের বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়িয়েছেন। তিনি বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে শুধু বলেছেন, সপ্তাহ ধরে চলা তেহরানের উপর অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তিনি ইরানের প্রস্তাবের অপেক্ষায় থাকবেন। ইরান যুদ্ধের অনিশ্চয়তাই নয় শুধু ট্রাম্পকে ভাবতে হচ্ছে আরো অনেক কিছুই। ১ মে’তে শেষ হবে ট্রাম্পের ৬০ দিনের যুদ্ধ চালিয়ে নেয়ার বিশেষ ক্ষমতা। এরপর সেনা মোতায়েন রাখতে তাকে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের বেশি কোথাও সেনা মোতায়েন করে রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমতি প্রয়োজন হয়। এটি ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলেশন(পাওয়ার অ্যাক্ট) নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র যদি কোথাও আক্রমণ করে তাহলে ৪৮ ঘন্টার ভেতর তা কংগ্রেসকে জানাতে হয় এবং এরপর ৬০ দিনের ভেতর কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হয়। কংগ্রেস চাইলে ৩০ দিন সময় বাড়িয়ে দিতে পারে। এর অধিক সময় যুদ্ধ পরিচালনা করতে অবশ্যই কংগ্রেসের উভয় কক্ষ থেকে অনুমতি নিতে হবে। ট্রাম্প এখন অব্দি কোন অনুমতি নেননি। যদিও পূর্বে কয়েকজন প্রেসিডেন্ট এই আইন এড়িয়ে যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন।
কি এই পাওয়ার অ্যাক্ট?
১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের একচ্ছত্র যুদ্ধ ক্ষমতাকে খর্ব করার জন্য একটি আইন পাস হয়। ৬০ দিনের বেশি যুদ্ধ চালাতে হলে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই লিখিত দিতে হয় কেন যুদ্ধ অপরিহার্য। ৯০ দিন পার হয়ে গেলে সেনা সরিয়ে নিতে হয়- যদি কংগ্রেস অনুমতি না দেয় অথবা যুদ্ধ ঘোষণা না করা হয়। তবে কংগ্রেসের হাতে কোন আইনত পদ্ধতি নাই যার মাধ্যমে তারা প্রেসিডেন্টকে থামাতে পারবে।
ট্রাম্প কি অনুমতি পাবেন?
এটা অনিশ্চিত যে ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমতি পাবে কিনা। তবে অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যদিও ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা খর্ব করার প্রস্তাবনা পাস হয়নি কংগ্রেসে। তবে সিনেটের অনেক রিপাবলিকানই কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া যুদ্ধ পরিচালনায় ইচ্ছুক নয়। রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস সম্প্রতি লিখেছেন, আমি আমেরিকার স্বার্থে প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম সমর্থন করি। কিন্তু আমি কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের অধিক যুদ্ধকে সমর্থন করবো না। আমি এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, কারণ একটি হচ্ছে ঐতিহাসিক এবং আরেকটি হচ্ছে সাংবিধানিক। ট্রাম্পের অনুগত কিছু রিপাবলিকানও কংগ্রেসে আটকে দিতে পারে ৬০ দিনের অধিক যুদ্ধ চালানো।
