তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়াল

তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়াল

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে কোনো সুখবর নেই। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুকে বাদ দিয়ে ইরান যে তিন দফা শর্ত দিয়েছে তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নাখোশ। তবুও যুক্তরাষ্ট্র ওইসব শর্ত পর্যালোচনা করে দেখছে। কিন্তু তেল ও গ্যাস সরবরাহে যে সংকট তা অব্যাহত আছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে হাতে গোণা দু’চারটি জাহাজ চলাচলের খবর পাওয়া গেলেও তা কোনো আশা জাগাতে পারছে না। এই অচলাবস্থা জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে রাখায় সোমবার তেলের দাম বেড়েছে। একই সময়ে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির আশায় বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে সামান্য উত্থান দেখা গেছে।

এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৭৫ ভাগ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮.২৩ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২.০৯ ভাগ বেড়ে ৯৬.৩৭ ডলারে পৌঁছে। ব্যবসায়ীরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের প্রভাব বিবেচনা করছেন।

হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন। এতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এবং উপসাগরীয় নৌপথ নিয়ে বিরোধ মেটার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা সোমবার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে এখনো প্রচেষ্টা চলছে।

এমএসসিআইয়ের বৈশ্বিক শেয়ার সূচক সামান্য বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা বড় কোম্পানিগুলোর আয় প্রতিবেদন, অর্থনৈতিক তথ্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। প্রিন্সটনের প্যালিও লিয়নের সহ-প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা জন প্রাভিন বলেন, বাজার এখন মনে করছে, আগে বা পরে কোনো না কোনো সমাধান আসবেই। তবুও তেলের বাজারই প্রধান উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে। কারণ উপসাগর থেকে জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিটের মিশ্র চিত্র
ওয়াল স্ট্রিটে ডাও জোন্স সূচক ০.১৩ ভাগ কমে ৪৯,১৬৭.৭৯ পয়েন্টে নেমেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.১২ ভাগ বেড়ে ৭,১৭৩.৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নাসডাক কম্পোজিট ০.২০ ভাগ বেড়ে ২৪,৮৮৭.১০ পয়েন্টে পৌঁছে। এমএসসিআইয়ের বৈশ্বিক সূচক ০.২২ ভাগ বেড়ে ১,০৭৪.৫২ পয়েন্টে উঠেছে। এর আগে ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচক ০.৩ ভাগ কমে বন্ধ হয়। নিউইয়র্কভিত্তিক ওসেইক ওয়েলথের প্রধান বাজার কৌশলবিদ ফিল ব্লাঙ্কাটো বলেন, আমরা এখন এক ধরনের অপেক্ষার সময়ে আছি। বাজার খুব দ্রুত আর বাড়বে বলে মনে হয় না। আরও তথ্যের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক।

এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রান্তিকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তথ্য এবং মার্চ মাসের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচারস (পিসিই) মূল্যসূচক প্রকাশিত হবে- যা মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন এবং মেটা প্ল্যাটফর্মস বুধবার তাদের ত্রৈমাসিক ফলাফল প্রকাশ করবে। আর অ্যাপল বৃহস্পতিবার ফলাফল ঘোষণা করবে।

মুদ্রাবাজারে সোমবার মার্কিন ডলার কিছুটা দুর্বল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকগুলোকে ঘিরে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ডলার সূচক ০.১৬ ভাগ কমে ৯৮.৪৯-এ নেমেছে। ইউরোর মান সামান্য বেড়ে ১.১৭২১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলার প্রায় স্থির ছিল, ১৫৯.৩৯-এ। এ সপ্তাহে বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে- এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ, জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। ফেডের বৈঠক মঙ্গলবার শুরু হয়ে বুধবার শেষ হবে, জেরোম পাওয়েলের নেতৃত্বে শেষ বৈঠক হতে পারে।

বন্ড ও স্বর্ণবাজার
মার্কিন ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ৪.৩৩৬ ভাগে উঠেছে। ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের দাম বেড়ে ৪.৯৪০৯ ভাগে পৌঁছেছে। ২ বছর মেয়াদি বন্ডে বেড়ে ৩.৭৯৯ ভাগে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে স্পট স্বর্ণের দাম ০.৬২ ভাগ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬৭৯.০৯ ডলারে নেমেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন