বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ফিরেছে দীর্ঘদিনের হারানো ঐতিহ্য। দীর্ঘ বিরতি শেষে বাউন্ডারি লাইনের ধারে আবার দেখা মিলেছে বলবয়দের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই পুরনো প্রথা মাঠে ফিরেছে। তবে এবার তাদের পরিচিতি বদলেছে। বোর্ড প্রধান তাদের নতুন নামকরণ করেছেন ফিউচার স্টার্স। ম্যাচ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তামিম।
সেখানে তিনি লেখেন- ‘বলবয় শব্দটা ব্যক্তিগতভাবে কখনোই খুব একটা ভালো লাগতো না আমার। ওরাই আমাদের ভবিষ্যৎ, তাই আমি ওদেরকে বলতে চাই ফিউচার স্টার্স। আশা করি, এই খুদে ক্রিকেটাররা ওদের প্রিয় ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখে অনুপ্রাণিত হবে, ওদের স্বপ্নের সীমানা বড় হবে এবং একদিন বাংলাদেশের হয়ে খেলবে। আমিও একসময় ওদের মতোই ছিলাম, আমিও ছিলাম একজন বলবয়।’
মূলত তরুণদের অনুপ্রাণিত করতেই দারুণ এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাউন্ডসম্যানরাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বল কুড়ানোর দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার সেই পুরনো সংস্কৃতিতে ফিরলো বিসিবি। চট্টগ্রামের অনূর্ধ্ব চৌদ্দ ও ষোলো দলের মোট ২২ জন ক্রিকেটার গতকাল মাঠের চারপাশে দায়িত্ব পালন করেছেন। তীব্র রোদ ও গরমের মাঝেও তারা সবাই ছিলেন দারুণ উজ্জীবিত। খুদে ক্রিকেটারদের জন্য এটি কেবল সুযোগই নয়, বিশাল এক অভিজ্ঞতা। খুব কাছ থেকে তারা ব্যাটসম্যানের নিখুঁত টাইমিং, বোলারের দুর্দান্ত ছন্দ এবং ফিল্ডারদের ক্ষিপ্র তৎপরতা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। ছোট এই দায়িত্বর মাঝেই লুকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ তারকা হওয়ার বিশাল প্রেরণা।
মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত যেন তাদের জন্য নতুন কিছু শেখার এক একটি পাঠ। বিসিবি এই ফিউচার স্টার্সদের স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ জোর দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমের ধকল সামলে তারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব্ব পালন করতে পারে, সেজন্য বাউন্ডারির চারধারে পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খেলার মাঠের এমন উৎসবমুখর পরিবেশে তারা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গেই নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে। এই ধরনের সুযোগ তরুণদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। আগামীতে এই সংস্কৃতি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের।
ক্রিকেটে বহু তারকার উঠে আসার গল্প শুরু হয়েছিল বাউন্ডারি লাইনের ঠিক বাইরে থেকেই। মোহাম্মদ আশরাফুল, তামিম, শাহরিয়ার নাফীস কিংবা মোহাম্মদ শরীফের মতো কিংবদন্তিরাও একসময় বলবয় ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা স্টেডিয়ামের এক কোণে ওয়াহিদুল গনির অংকুর ক্রিকেট একাডেমির কিশোররা এমন দায়িত্ব পালন করতো।
ঘরোয়া আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ থেকে শুরু করে তখনকার মিনি বিশ্বকাপ, ইন্ডিপেনডেন্স কাপ ও এশিয়া কাপের মতো আসরে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এই দারুণ ঐতিহ্যের একজন সফল অংশ তামিম নিজেও। অতীতে ইংল্যান্ড ‘এ’ দল সফরে এলে চট্টগ্রামে তিনদিনের একটি ম্যাচে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই ম্যাচে হাবিবুল বাশারের সেঞ্চুরি বাউন্ডারির ধার থেকে দেখেই কিশোর তামিমের মনে বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন জোরালো হয়েছিল।
