মসজিদের ইমামের কাছে লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলার চেষ্টা

ফন্ট সাইজ:

জামালপুর শহরের নতুন হাইস্কুল জামে মসজিদের ইমামের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় মাগরিব নামাজের সময় নতুন হাইস্কুল জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে শহর জুড়ে সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে শহরের বাসিন্দারা। চাঁদা না দেয়ায় ইমামের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ কালু ও জুয়েল রানার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ কালু জেলা যুবদলের সদস্য ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং জুয়েল রানা ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা ও ওই মসজিদের একজন মুসল্লি জানান, মসজিদে গরমকালে নামাজ পড়তে অসুবিধা হয়। মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের উদ্যোগে এসি কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এসি কেনার জন্য টাকা সংগ্রহ করে। যে পরিমাণ টাকা সংগ্রহ হয়েছে তা দিয়ে এসি কেনা সম্ভব না। আরও টাকা সংগ্রহ করতে হবে। যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ কালু ও জুয়েল রানা ইমাম সাহেবের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ইমাম সাহেবের চাকরি খেয়ে ফেলাসহ নানা হুমকি দিয়ে আসছে।

স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জেলা বিএনপি’র ঊর্ধ্বতন মহলে জানালে চাঁদাবাজ দুই যুবদল নেতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সম্প্রতি মসজিদে নামাজ চলাকালীন সময়ে যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ কালু ও জুয়েল রানা মসজিদের অভ্যন্তরে বাঁশ হাতে নিয়ে মসজিদের ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক তারেক চৌধুরীর ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। পরে মুসল্লিদের চেষ্টায় প্রাণে রক্ষা পায় ইমাম আলাউদ্দিন ও মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তারেক চৌধুরী।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তরা ইমামকে অপসারণের হুমকি দিয়ে গোপনে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হলে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে তারা মসজিদের ভেতরে নামাজ চলাকালীন সময়েও অশালীন ভাষায় গালাগালি করে এবং লাঠিসোটা নিয়ে ইমাম ও সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়।

ঘটনার বিষয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তারেক চৌধুরী বলেন, ওরা গালিগালাজ করে বাঁশ নিয়ে মারতে এলে উপস্থিত মুসল্লিরা ফিরিয়ে দেয়। তখন আমি চুপচাপ মসজিদ থেকে বের হয়ে আসি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কার কাছে বিচার দেবো? অভিযুক্ত ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা বলেন, আমরা মসজিদে গিয়েছিলাম। ইমাম সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এ ব্যাপারে জেলা যুবদলের সদস্য হারুনুর রশিদ কালুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ রকম কোনো ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইমামের ওপর চাঁদা দাবির ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল হলে জামালপুর শহরের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন