সাতক্ষীরার সদর উপজেলায় গহনা ছিনিয়ে নিতে এক নারী দোকানিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মাথা ও কপালে ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত বীথিকা রানী ঘোষ (৪৫) লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা কুলুপাড়া গ্রামের মৃত বিশ্বনাথ ঘোষের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি নিজেই একটি মুদিখানা দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, মাগুরা বৌবাজার এলাকায় তার একটি ছোট মুদিখানা দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো রোববার সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে পূর্ব থেকে ওতপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে হামলা চালায়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং কপাল ও মাথায় ইট দিয়ে গুরুতর আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে প্রমাণ গোপন করতে মরদেহ পাশের একটি পুকুরে ফেলে রেখে যায় তারা। নিহতের হাতে স্বর্ণের রুলি, গলায় চেইন এবং কানে দুল ছিল বলে পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এসব গহনা ছিনিয়ে নিতেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এদিকে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
