আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের ব্যয়ভার নিয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর উদ্বেগের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করলো বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। চলতি সপ্তাহে ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিলের সভায় প্রাইজমানি ও অংশগ্রহণ ফি বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথমে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে যাতায়াত, আবাসন এবং ট্যাক্সের উচ্চমূল্যের কারণে জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলো আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে। এমনকি টুর্নামেন্টের পরের রাউন্ডে পৌঁছালেও লাভের মুখ দেখা কঠিন হবে বলে জানানো হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বরে ঘোষিত ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানি আরও বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ৪৮টি দলের প্রতিটি অন্তত ১০.৫ মিলিয়ন ডলার এবং চ্যাম্পিয়নরা ৫০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা ছিল।
এক বিবৃতিতে ফিফার একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আগামী ২৮শে এপ্রিল ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিলের সভার আগে ফিফা নিশ্চিত করছে যে, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য আর্থিক অবদান এবং ২১১টি সদস্য দেশের উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “২০২৬ বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবল সম্প্রদায়ের জন্য এক বৈপ্লবিক আর্থিক অবদান রাখতে যাচ্ছে। ফিফা তার ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ব গেমকে উপকৃত করার জন্য এখন ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে রয়েছে।”
ফিফার শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের মূলে রয়েছে এই চক্রে তাদের প্রত্যাশিত ১৩ বিলিয়ন ডলারের আয়। এর মধ্যে কেবল বিশ্বকাপ থেকেই আসবে ৯ বিলিয়ন ডলার। সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে বিতরণের জন্য নির্ধারিত ১১.৬৭ বিলিয়ন ডলারের পরিমাণ এখন আরও বাড়বে।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ (এফএ) ইউরোপের বড় বড় অ্যাসোসিয়েশনগুলো ফিফার কাছে এই দাবি জানায়। তাদের মতে, বর্তমান কাঠামোতে কেবল সেমিফাইনাল বা ফাইনাল না খেললে খরচের তুলনায় আয় অনেক কম হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো কর ছাড় না পাওয়ায় বিভিন্ন রাজ্যে ১৩.৩% পর্যন্ত কর পরিশোধ করতে হবে, যা ফেডারেশনগুলোর দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফিফা শেষ পর্যন্ত তাদের দাবি আমলে নেয়ায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
