বর্তমানে সারা দেশ ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঘাটতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে সরকার ইতিমধ্যে নানা কঠোর ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিসের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানগুলো সন্ধ্যার পর পরই বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ যখন এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে লোডশেডিং মেনে নিচ্ছে এবং কৃচ্ছ্রসাধন করছে, ঠিক তখনই প্রশাসনের চরম গাফিলতির এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেল বগুড়ায়।
রোববার সকালে বগুড়া শহরের অন্যতম জনবহুল এলাকা জলেশ্বরীতলায় গিয়ে দেখা যায়, সূর্য ওঠার দীর্ঘ সময় পরেও রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের বাতিগুলো জ্বলছে। সকাল ৮টার রোদে যখন চারপাশ আলোকিত, তখনও রাস্তার বাতিগুলো জ্বলে থাকা চরম অব্যবস্থাপনারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। যেখানে এক ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সরকার প্রতিনিয়ত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে, সেখানে এমন অপচয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সরজমিনে দেখা যায়, জলেশ্বরীতলা এলাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ভেতরের বিভিন্ন গলিতেও সকাল ৮টা পর্যন্ত বাতিগুলো নেভানো হয়নি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই এই বাতিগুলো বন্ধ করার কথা। রোববার সকালে নিজের সন্তানকে ওই এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে পৌঁছে দিতে এসেছিলেন সাজিদুর রহমান নামের একজন সচেতন নাগরিক। রাস্তার এই দৃশ্য দেখে তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
সাজিদুর রহমান বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থায় আমরা সাধারণ মানুষ কতো কষ্ট করছি। ঘরে বিদ্যুৎ থাকে না, বাচ্চাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, গরমে মানুষ অতিষ্ঠ। সরকার আমাদের বলছে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে, আমরা করছিও। অথচ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় দিনদুপুরে এভাবে রাস্তার লাইট জ্বলছে। এটা তো জনগণের ট্যাক্সের টাকার অপচয় বটেই, তার চেয়ে বড় কথা এটি দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এক ধরনের উপহাস। যারা এই বাতিগুলো নেভানোর দায়িত্বে আছেন, তাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই?
শুধু সাজিদুর রহমানই নন, ওই এলাকায় যাতায়াতকারী অসংখ্য পথচারী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, একদিকে দোকানপাট তাড়াতাড়ি বন্ধ করে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। প্রশাসনের এমন উদাসীনতাকে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ল্যাম্পপোস্টের বাতি যদি প্রতিদিন অতিরিক্ত কয়েক ঘণ্টা জ্বলে থাকে, তবে মাস শেষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় অনেক বড় এক ঘাটতিতে। বগুড়ার মতো একটি বড় শহরে যদি শত শত বাতি এভাবে দিনের বেলা জ্বলতে থাকে, তবে সরকার যে সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করছে তা ভেস্তে যেতে বাধ্য।
বিষয়টি নিয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, রাস্তার বাতিগুলো দেখাশোনা করে পৌরসভা। বিষয়টি জানার পরে আমি পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। দায়িত্বে অবহেলায় জড়িতদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
