যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭)-এর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা এলাকায় চলছে শোকের মাতম। শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রামের মানুষ। এলাকাবাসী ও স্বজনরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থী লিমন লালডোবা এলাকার জহুরুল হকের ছেলে। শৈশব কেটেছে গাজীপুরের মাওনা এলাকায়। বর্তমানে তারা রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় বসবাস করেন।
স্বজনরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে গত ১৭ই এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন জামিল আহমেদ লিমন। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে এক বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যান। তার বন্ধু নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। সে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে এক বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যান। তারা দুইজনেই সেখানে পিএইচডি করছিলেন। গত শুক্রবার জামিল আহমেদ লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডার পুলিশ।
নিহতের স্বজনরা জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে লিমন বড় ছিল। ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ছাত্র ছিল। বাবার ইচ্ছা পূর্রণ করতে সব সময় ব্যস্ত থাকতো লিমন। গ্রামে আসলে সবার সঙ্গে মিশতো। গ্রাম তার অনেক পছন্দ ছিল। লিমনের দাদা পূর্ব বিনতটঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাজী আলতাফুর রহমান বলেন, লিমন বাড়িতে আসলেই আমার কাছে বায়না ধরতো মিষ্টি খেতে। বাজার থেকে মিষ্টি এনে দিতাম। অনেক মেধাবী ছাত্র ছিল। বাবার ইচ্ছা পূরণের জন্য লেখাপড়ায় ব্যস্ত থাকতো। তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবরে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে। গ্রামের গর্বের ধন ছিল লিমন। আমাদের সব শেষ। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শাস্তি চাই। তাদের দাবি, লিমনের লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা। সরকারের কাছে এই দাবি তাদের।
