ধান চাষ করে এখন বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। দেড়মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের দাম মেটাতে হচ্ছে। আবার অনেক স্থানে টাকায়ও মিলছে না শ্রমিক। তেলের অভাবে ধানকাটা মেশিন ঠিকমতো চলছে না বলে দুর্ভোগ বাড়ছে। এতে চাষিরা ধান চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ অবস্থায় কীভাবে বোরো ফসল ঘরে তুলবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না চাষিরা।
স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শেষ সময়ে এসে নতুন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা। একদিকে প্রতিদিন আসছে ঝড়-বৃষ্টি অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও ধানকাটা এবং মাড়াই মেশিন চালাতে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্য দিকে বাজারে ধানের দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক কমে যাওয়ায় দেড়মণ ধানের দামে মিলছে না একজন শ্রমিক। এ অবস্থায় অনেকেই নতুন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে মহা চিন্তায় পড়েছেন।
উপজেলার কলাতলা, হিজলা, বড়বাড়িয়া, শিবপুর, চিতলমারী সদর, চরবানিয়ারী ও সন্তোষপুর ইউনিয়নে মাঠের জমিতে চিংড়ি চাষ করার পাশাপাশি অধিকাংশ ঘেরের জমিতে বিভিন্ন জাতের রোরো ধানের চাষ হয়েছে। কৃষি প্রধান এ অঞ্চলের চাষিরা সবসময়ই আগাম ফসল চাষাবাদে তৎপর থাকেন। চিংড়ি ঘেরের পাড়ে শশা, করোলা, টমেটো চাষের পাশাপাশি সেখানকার জমিতে বছরে একবার রবি মৌসুমে ব্যাপকভাবে বোরো ফসল চাষ করা হয়। এসব জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের হীরা-২, হীরা-৯, আলোরন, স্বাতী, ইস্পাহানি-২, ইস্পাহানি-৭সহ অসংখ্য জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু দেশীয় জাতও রয়েছে।
এ সকল ধান চাষাবাদের মাধ্যমে চাষিদের সারা বছরের খোরাক ঘরে আসে। বোরো ফসলই চাষিদের খাদ্য সংকট দূর করে থাকে এবং এখানকার ফসল দেশের অনেক স্থানে চালান হয়। কিন্তু এ বছর ফসল ঘরে তোলা নিয়ে নানামুখি সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে রয়েছে ধানকাটা শ্রমিকের অভাব। অন্যদিকে ধানকাটার জন্য যন্ত্র নির্ভরশীল হওয়ায় ধানকাটা ও মাড়াই মেশিন চালাতে যে জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় মিলছে সামান্য। যেটি দিয়ে ধান ঘরে তোলা সম্ভব নয় বলে হতাশ চাষিরা।
উপজেলার কুরমনি মাঠের চাষি মালেক শেখ, দুর্গাপুর মাঠের চাষি প্রতুল হালদার ও শ্যামপাড়া গ্রামের বোরো চাষি মধাব বৈরাগীসহ অনেকে জানান, এখন অধিকাংশ ফসলে পাক ধরেছে। বেশির ভাগ স্থানে ধানকাটা শুরু হয়েছে কিন্তু মেশিনের জন্য পর্যাপ্ত তেল মিলছে না। এ ছাড়া কৃষি অফিস থেকে তেলের জন্য যে কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সে কার্ড নিয়ে পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ লাইন দিয়েও প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট রয়েছেই। ধানের মণ বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় অথচ একজন শ্রমিকের মূল্য ১১শ’ থেকে ১২শ’ টাকা। এতে দেড়মণ ধানের দাম দিয়ে প্রতিদিন একজন শ্রমিকের দাম মেটাতে হচ্ছে। তারা অনেকেই বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদে, কর্জে টাকা এনে চাষাবাদে ব্যয় করেছেন এখন কীভাবে আসল চালন ঘরে তুলবেন এবং ঋণ শোধ করবেন সেটি ভেবে পাচ্ছেন না বলে হতাশা ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত আল মারুফ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এলাকায় ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফসল মাড়াই ও কাটার জন্য এ পর্যন্ত শতাধিক চাষিদের তেলের কার্ড দেয়া হয়েছে তবে এলাকায় একটি তেলের পাম্প থাকায় সেখান থেকে ঠিকমতো তেল সরবরাহ করতে পারছেন না। এ ছাড়া ১৪৪০ টাকায় সরকার ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন সেটি চালু হলে চাষিরা সঠিক মূল্য পাবে বলে তিনি অভিমত দেন।
