সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে সরকার ধানের মূল্য প্রতি মণ ১৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও বর্তমানে কৃষকরা মোটা ধান ৮০০ টাকা এবং চিকন ধান ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকার ধান কম কিনে চাল বেশি কেনায় কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, জেলায় প্রায় ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদন হলেও সরকার বছরে মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টন ধান ক্রয় করে থাকেন। যা বাজারে দামের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। অন্যদিকে, প্রতি বছর ধানের তুলনায় চাল কেনার পরিমাণ বেশি থাকায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। সুনামগঞ্জ খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত বছর জেলায় ১৫ হাজার ৭০০ টন ধান এবং প্রায় ২৫ হাজার টন আতপ ও সিদ্ধ চাল কেনা হয়।
এর আগের বছর ধান কেনা হয়েছিল ১৮ হাজার টন এবং চাল কেনা হয়েছিল ২৫ হাজার টন। স্থানীয় মধ্যনগর বাজার আড়ৎ কল্যাণ সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে এখনো ধান কেনা শুরু না হলেও আড়তে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ হাজার মণ শুকনা ধান কেনা হচ্ছে। রোববার ২৮ জাতের ধান ১ হাজার ১০ টাকা মণ এবং হাইব্রিড ধান ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। কামাল নামে একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধান কেনা বাড়াতে হবে এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় সুনামগঞ্জের ধান আগে কেনা প্রয়োজন। একইসঙ্গে জেলার কৃষকদের কাছ থেকে কমপক্ষে এক লাখ টন ধান কেনা উচিত।
শাল্লা উপজেলার কৃষক ছত্তার মিয়া বলেন, সরকার যদি ধান কিনে মিলিং করে চাল উৎপাদন করতে পারে, তাহলে বেশি পরিমাণ ধান সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার ধান কম কিনে চাল বেশি কেনায় কৃষকের কোনো লাভ হয় না; বরং ফড়িয়া ও মিলারদের লাভ হয়। সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা বিএম মুশফিকুর রহমান জানান, চলতি বছর প্রতি কেজি ৩৬ টাকা অর্থাৎ প্রতি মণ ১৪৪০ টাকা দরে চাল কেনা হবে। সারা দেশে পাঁচ লাখ টন ধান এবং ১২ লাখ টন সিদ্ধ ও এক লাখ টন আতপ চাল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জে কতো টন ধান ও চাল কেনা হবে তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।
তিনি জানান, আগামী ৩রা মে থেকে জেলায় ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হবে। সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে এবং প্রায় ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগাম বৃষ্টিপাতে দুই দফায় মোট ১ হাজার ৩৩১ হেক্টর বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে জেলার সব উপজেলায় ধান কাটা চলছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ই মে’র মধ্যে শতভাগ ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
