বিয়ানীবাজারে ভুক্তভোগী পাওনাদারদের বিরুদ্ধে আদম ব্যবসায়ীর মামলা

ফন্ট সাইজ:

বিয়ানীবাজার থেকে ইতালি যেতে ইচ্ছুক শতাধিক ভুক্তভোগীর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মগোপনে থাকা আদম ব্যবসায়ীর পক্ষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আবার পাওনাদারদের পক্ষে এক ব্যক্তি পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। পাল্টাপাল্টি মামলার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। বিষয়টি এখন উপজেলার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।

জানা যায়, গত ২০শে এপ্রিল সিলেটের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম ও দ্রুত বিচার আদালতে আদম ব্যবসায়ী দেলওয়ার হোসেনের স্ত্রী নাদিয়া আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে মাথিউরা খলাগ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে শিপলু আহমদ (৪০), আলম আহমদ (৩৫) ও ইমন আহমদ (৩০), কান্দিগ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে সাহেদ আহমদ (২৫), খলাগ্রামের মরম উদ্দিনের ছেলে আমজাদ হোসেন (৩০), গোলাপগঞ্জের বাগলা গ্রামের কবির আহমদ পিরেরচক গ্রামের সাইব উদ্দিনের ছেলে ইকবাল আহমদ (৪০)সহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে গত ১৭ই এপ্রিল আসামিগণ কর্তৃক বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে শক্তি প্রদর্শন পরবর্তী ধনসম্পত্তি লুটপাট করার চেষ্টা, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর, মব সৃষ্টি করে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিয়ানীবাজার থানার এসআই আক্তারুজ্জামান এটি তদন্ত করছেন।

অপরদিকে, গত ২৪শে এপ্রিল পাওনাদারদের পক্ষে মাথিউরার দুধবকশি গ্রামের বাহা উদ্দিনের ছেলে আজিম উদ্দিন বিয়ানীবাজার থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। এতে জলঢুপ পাড়িয়াবহর গ্রামের সফাত আলীর ছেলে দেলওয়ার হোসেন (৪৫), আরকান আলীর ছেলে সফাত আলী (৬০), সফাত আলীর ছেলে ইকবাল হোসেন (৩৭), তারেক হোসেন (৩০), তাহের হোসেন (২৭), কাওসার আহমদ (৩০)কে আসামি করা হয়েছে। অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে বাদীর ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়। বিয়ানীবাজার থানার এসআই রফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, আদম ব্যবসায়ী কাওছার হোসেন ইতালিতে বসবাস করেন। সে সুযোগ নিয়ে তিনি প্রথমদিকে ১০-১২ জন লোককে কৃষি ভিসায় ইতালি নিয়ে যান। এমন খবর সর্বত্র জানাজানি হলে ইউরোপগামী মানুষের লাইন পড়ে কাওছারের বাড়িতে। একপর্যায়ে জনপ্রতি ১৪-১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে ইতালি যেতে রাজি হন স্থানীয়রা। এদের মধ্যে কেউ নির্ধারিত টাকার পুরোটা আবার কেউ আংশিক কাওছারের দেশে থাকা ভাই দেলোওয়ার হোসেনের কাছে তুলে দেন। যার পরিমাণ ১০ কোটি টাকার উপরে হবে বলে জানান তারা।

অপরদিকে, প্রায় ৪-৫ বছর ধরে ইতালি যেতে না পারা লোকজন টাকার জন্য চাপ দেন দেলোওয়ার-কাওছারকে। উপায় না পেয়ে কাওছার ইতালি থেকে অন্যত্র গিয়ে আত্মগোপন করেন। আর দেলোওয়ার হয়ে যান লাপাত্তা। বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আমরা মামলা দু’টি তদন্ত করছি। বিশেষ করে দেলওয়ারকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন