থমকে আছে সম্ভাবনাময় হাওর পর্যটন

থমকে আছে সম্ভাবনাময় হাওর পর্যটন

ফন্ট সাইজ:

হাওর-বাঁওড় নদীবেষ্টিত জেলা কিশোরগঞ্জ। এখানের হাওরে শুকনো মৌসুমে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ধুলোউড়া মেঠোপথ, রুপালি নদী। আর বর্ষায়? এই রুপালি নদীগুলোই ফুঁসে উঠে। দুই তীর ছাপিয়ে প্লাবিত করে ফসলি মাঠ। দেখতে একেবারে সাগরের মতো। ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে কিশোরগঞ্জের হাওরের সৌন্দর্য অন্যান্য এলাকার চেয়ে একটু ভিন্ন। ব্যতিক্রম এখানকার ঋতুবৈচিত্র্য।

হাওরে বর্ষা থাকে বছরের প্রায় ছয় মাস। পানি আসতে শুরু করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ থেকে। শেষ হয় আশ্বিন-কার্তিকে। বাকি ক’মাস এখানে শুকনো কাল। সে হিসেবে মূলত হাওরে ঋতু দু’টি। একটি বর্ষা, অন্যটি ‘শুকনো’।

কি শুকনো কি বর্ষাকাল। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সৌন্দর্যের বিপুল পসরা সাজিয়ে বসে থাকে কিশোরগঞ্জের হাওর। বর্ষায় হাওর হয়ে ওঠে কূলহীন সাগর। বিশাল জলরাশির বুকে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর একেকটাকে ছোট দ্বীপের মতো লাগে। দূর থেকে মনে হয়, কচুরিপানা হয়ে যেন পানিতে ভাসছে গ্রামগুলো। হাওর জুড়ে গলা ডুবিয়ে থাকা হিজল গাছের সারি মন কাড়ে যে কারও। পানির নিচ থেকে জেগে ওঠা করচের বন, হাঁসের ডিমের মতো সাদা ফল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বরুন গাছ, কিংবা গাঙ্গেয় মিঠা পানিতে শুশুকের লাফ-ঝাঁপ দেখলে বিনোদিত না হয়ে পারা যায় না।

বর্ষা পরবর্তী শরতে হাওরে যখন পানি কমা শুরু হয় তখন থেকেই আকাশে সাদা মেঘের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাজার হাজার ধবল বকেরও উড়াউড়ি শুরু হয়। দুলতে থাকে হাওরপাড়ের সাদা কাশবন। আসতে শুরু করে পরিযায়ী পাখি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিলে ফুটে সাদা শাপলা, রক্ত শাপলা, নীল শাপলা ও চাঁদমালা ফুলেরা!

শুকনো মৌসুমে পুরো হাওর হয়ে যায় দিগন্তবিস্তৃত সবুজ প্রান্তর। যেখানেই চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। একটু দূর যাওয়ার পরপরই চোখে পড়ে বিভিন্ন আকৃতির বিল-ডোবা। এসবে জলজ উদ্ভিদের ঘন বুনট। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা হোগলা বন। শলাগাছ, কলমিলতা। কোথাও কোথাও ছোট ভিটি আকারের উঁচু মতো জায়গা। ছন ক্ষেত। গলাডোবা ধান। এসবই আকৃষ্ট করার মতো।

ধানবনে কোড়া পাখির ‘টুব টুব’ ডাক নস্টালজিক করে যে কাউকে। বিলের কিনার ঘেঁষে ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার ধবল বক। বালিহাঁসের ওড়াউড়ি। কালিম, জলপিপি, ডাহুক, পানকৌড়ি ও জলময়ূরের অবগাহন দেখলে মোহিত না হয়ে পারা যায় না। এ সময়টায় পরিযায়ী পাখির আগমন হাওরকে আরও আন্দোলিত করে তুলে। সাঁঝের বেলায় মুক্তোর মালার মতো পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার সময় মুখরিত কলকাকলির কান ফাটানো শব্দ একমাত্র হাওর এলাকাতেই শোনা সম্ভব। এমন বিচিত্র প্রকৃতি ও জীবনধারা বাংলাদেশের আর কোথাও দেখা যায় না।

কথিত আছে, বৃহত্তর সিলেট ও বৃহত্তর ময়মনসিংহের একটি বড় অংশ এক সময় ‘কালীদহ সাগর’ নামে বিশাল জলরাশিতে নিমজ্জিত ছিল। পরবর্তীতে ভূ-প্রাকৃতিক বিবর্তনের ফলে তা পিরিচ আকৃতির নিম্ন সমতলভূমিতে পরিণত হয়, এই নিম্ন সমতলভূমিই এখন হাওর। হাওর শব্দটিও সাগর শব্দের অপভ্রংশ। সাগর থেকে সায়র, সায়র থেকে হাওর।

সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ এই সাতটি জেলা মিলে হাওরাঞ্চল। এখানে ৭ লাখ ৮৪ হাজার হেক্টর জলাভূমিতে রয়েছে ৪২৩টি হাওর। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলায় রয়েছে বিশাল আকারের ১২২টি হাওর। কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার মধ্যে ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম এবং নিকলী পুরোপুরি হাওর অধ্যুষিত উপজেলা। এ ছাড়া তাড়াইল, করিমগঞ্জ, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর এবং ভৈরব উপজেলায়ও কিছু হাওর রয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলার মোট আয়তন ২ লাখ ৭৩ হাজার ১২১ বর্গকিলোমিটার। আর হাওরের আয়তন জেলার মোট আয়তনের প্রায় অর্ধেক।

কিশোরগঞ্জের হাওরে পর্যটকদের দেখার মতো বেশ কিছু জায়গা রয়েছে। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য যেন সৌন্দর্যের বিপুল পসরা সাজিয়ে বসে আছে হাওর। প্রতি বর্ষাতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঘুরতে আসেন এই হাওরে। মানুষজন দলবেঁধে ছুটেন হাওরের বিভিন্ন মনোরম স্থানে। জেলার হাওরের পাড়ে পাড়ে বছর জুড়ে থাকে ভ্রমণপিপাসুদের কলরব। তাদের বাঁধভাঙ্গা ঢল আর উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হাওর যেন পরিণত হয় পর্যটনের এক স্বর্গপুরীতে।

কিশোরগঞ্জের হাওরের প্রধান আকর্ষণ ইটনা থেকে মিঠামইন হয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা পর্যন্ত হাওরের বিশাল জলরাশির বুক চিরে নির্মিত দীর্ঘ ৩৫ কিলোমিটার অলওয়েদার সড়ক। হাওরে সৌন্দর্যের এক দুর্নিবার আকর্ষণের নাম হয়ে ওঠেছে- অলওয়েদার সড়ক। দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন সেখানে ছুটে যান সৌন্দর্য আর ভ্রমণপিপাসুরা। বাংলাদেশের কোথাও হাওরের মাঝখানে এত দীর্ঘ সড়ক নেই। সড়কের দু’পাশে বিশাল জলরাশি। মুহুর্মুহু আছড়ে পড়া উত্তাল ঢেউ আর ঢেউয়ের গর্জন। সড়কটি দেখার পাশাপাশি সড়কের পাশে বসে বুকভরে নির্মল বাতাস নেয়ার প্রশান্তি সত্যিই অসাধারণ। নিকটবর্তী দূরত্বেই রয়েছে বালিখোলা হাওর। কিশোরগঞ্জ জেলা শহর থেকে সবচেয়ে কাছে হাওরের স্পর্শ পাওয়া যায় করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা এলাকায়। বালিখোলা থেকে মিঠামইনে যাওয়ার পথে হাওরের পানিতে ভাসছে একটি সেতু। হাসানপুর গ্রামের পাশে গড়াভাঙ্গা নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি হাসানপুর ব্রিজ নামে পরিচিত। প্রায় ১৫৭ মিটার দীর্ঘ ব্রিজের সঙ্গে রয়েছে ১.১৭ কিলোমিটার অলওয়েদার সড়ক ও ১.৬৫ কিলোমিটার সাবমার্চেবল সড়ক। রয়েছে হাওররানী খ্যাত পর্যটন এলাকা নিকলীর বেড়িবাঁধ। সৌন্দর্য, বিনোদন আর প্রশান্তির এক অনন্য ঠিকানা হয়ে ওঠেছে হাওরের মনোরম এসব স্থান। ভরা বর্ষায় সরকারি বন্ধ ও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুরা যান্ত্রিক শহরের ক্লান্তি দূর করতে ছুটে যান প্রকৃতির লীলাভূমি কিশোরগঞ্জের হাওরে। হাওরের নান্দনিক এসব স্থানে দাঁড়িয়ে তারা হাওরের বিপুল সৌন্দর্য উপভোগ করেন। অনেকেই আবার হাওরের বহমান পানির স্রোতে গা ভাসান। বালিখোলা ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে অনেকেই ছুটেন হাওর ভ্রমণে। নৌকাযোগে ছুটে যান অদূরের হাসানপুর ব্রিজে। সেখানে ফটোসেশন, আড্ডা আর ঘুরেফিরে সময় কাটানোর পাশাপাশি ব্রিজের সাবমার্চেবল সড়ক অংশে পা ভেজান হাওরের জলে। হাজারো দর্শনার্থী রোজ ছুটছেন হাওরের নির্মল বাতাসে বুকভরে নিঃশ্বাস নেয়ার পাশাপাশি হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। হাওরের পাড়ে পাড়ে পুরো বর্ষা জুড়েই থাকে ভ্রমণপিপাসুদের কোলাহল। তাদের বাঁধভাঙা ঢল আর উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হয় কিশোরগঞ্জের পুরো হাওর।

হাওরের নান্দনিক স্থানের মধ্যে দর্শনার্থীদের কাছে পছন্দের একটি নাম নিকলী বেড়িবাঁধ। নিকলী উপজেলা সদরে হাওরের ঢেউয়ের কবল থেকে রক্ষা করতে ২০০০ সালে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই বেড়িবাঁধটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০১০ সালে নিকলী উপজেলা পরিষদের সামনের প্রতিরক্ষা দেয়াল বাঁধটিকেও বেড়িবাঁধ আকারে করে এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই দীর্ঘ ৬ কিলোমিটারের এই হাওর রক্ষা বাঁধটিকে কেন্দ্র করে নিকলী পর্যটন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বর্ষা এলেই জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে যান নিকলীতে। এ ছাড়া নিকলী উপজেলা সদরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থাকায় সেটিও দর্শনার্থীদের আগ্রহী করছে। নিকলী বেড়িবাঁধ থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্পিডবোট ভাড়ায় নিয়ে দর্শনার্থীরা হাওরের মাঝে ভেসে বেড়ানোরও সুযোগ পাচ্ছেন।

দর্শনার্থীরা বলছেন, প্রতিদিন হাওরে হাজার হাজার মানুষ আসেন একটু নির্মল আনন্দময় পরিবেশে সময় কাটাতে। হাওরের মতো এমন পরিবেশ এখন আর কোথাও দেখা যায় না। সাগরে যেভাবে সূর্য ডুবে, হাওরেও তাই। সারারাত মাছের সঙ্গে খেলা করে ভোরে পানির নিচ থেকে চোখ লাল করে বের হন সূর্যদেব। তখন সবকিছু অন্যরকম মনে হয়।
বর্ষায় রাতের হাওরে ঢেউ আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ, অনেকের ঘুম কেড়ে নেয়। এর মধ্যেই জেলেরা ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় হারিকেন জ্বালিয়ে জাল দিয়ে মাছ ধরতে নেমে পড়ে হাওরে। হাজারো প্রদীপ হয়ে পানিতে ভাসতে থাকে জেলেরা। তবে নৌকায় রাতের হাওর ও জ্যোৎস্না দেখতে কিছুটা সাহস দেখাতে হয় বৈকি।

হাওরের পানি, মাছ, হিজলবন, পাখপাখালি, সবুজমাঠ ছাড়াও দেখার মতো বেশ কিছু জায়গা রয়েছে। মিঠামইন উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের ‘দিল্লির আখড়া’ এর মধ্যে অন্যতম। আখড়াকে ঘিরে এখানে রয়েছে শত শত হিজল গাছ। হিজল গাছের সারি তিনশ’ একরের পুরো আখড়া এলাকা জুড়েই! সারা বর্ষায় এগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। এ ছাড়া শিমুলবাঁকের হিজলবন, তাড়াইলের হিজলজানি হাওর দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। অষ্টগ্রামের প্রায় সাড়ে চার শ’ বছরের পুরনো পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট কুতুব শাহ মসজিদ, আওরঙ্গজেব মসজিদ, ঈশাখাঁ’র সময়ে নির্মিত ইটনার শাহী মসজিদ, জয়সিদ্ধিতে র‌্যাংলার আনন্দমোহন বসু’র বাড়ি, ধনপুরের কাঠুইরে গুরুদয়াল সরকারের বাড়ি, মোঘল আমলে নির্মিত নিকলীর গুরুই মসজিদও হাওর পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে।

হাওরের ডুবোসড়ক দৃষ্টি কাড়ে সবার। কংক্রিটের তৈরি এ ধরনের সড়ক বর্ষায় তলিয়ে যায়। শুকনো মৌসুমে ভেসে উঠে। ছয়মাস এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা যায়। কিশোরগঞ্জ জেলার পুরো হাওর জুড়েই বর্তমানে অসংখ্য ডুবোসড়ক দেখা যায়। যা হাওরবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অনেক সহজ করেছে। বর্ষার মতোই শুকনোতেও অপরূপা হাওর। দিগন্তবিস্তৃত মাঠের পর মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ আর অতিথি পাখির মেলা পথিকের চোখকে দুর্নিবার আকর্ষণে টেনে নিয়ে যায় হাওরের মাঠে-ঘাটে-বাঁকে।

হাওর বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যে অনন্য এক স্বতন্ত্র সত্তা। এমন বিচিত্র প্রকৃতি ও জীবনধারা বাংলাদেশের আর কোথাও দেখা যায় না। শুকনো কিংবা বর্ষা সব সময়েই যেন সৌন্দর্যের বিপুল পসরা সাজিয়ে বসে আছে হাওরের প্রকৃতি। হাওরের জীবন ও প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। হাওর হয়ে ওঠতে পারে আগামীর এক অনন্য পর্যটন ঠিকানা। পর্যটন সম্ভাবনার এ বিষয়টি মাথায় রেখেই পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে বেসরকারি পর্যায়ে নানা ব্যবসায়িক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হাওরের নানা স্থানে গড়ে ওঠছে রিসোর্ট, রেস্টুরেন্টসহ ব্যক্তি পর্যায়ের নানা পর্যটন সেবা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু হাওর পর্যটনের এ বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর দৃশ্যত প্রশাসনিক কোনো উদ্যোগ নেই। আবাসন সুবিধা না থাকায় রাত্রিযাপন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় পর্যটকদের। ফলে হাওর ভ্রমণের অপূর্ণতা নিয়েই তাদের সন্ধ্যার আগেই জেলা শহরের দিকে ফিরতে হয়। এতে পর্যটকেরা হাওরের পুরোপুরি সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত হন। নিরাপত্তা নিয়েও তাদের বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। হরহামেশাই ছিনতাই-ডাকাতির শিকার হন পর্যটকেরা। যানবাহন, হোটেল, রেস্তরাঁয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পর্যটকদের পকেট কাটা হয়। ন্যূনতম পর্যটন সেবাও কোনো দপ্তর থেকে মিলে না। এতে করে হাওর পর্যটনে বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয় পর্যটকদের। হাওরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ব্যাপারে সরকারিভাবে কোনো প্রচার-প্রচারণাও নেই। এসব নানা অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় মুখ থুবড়ে পড়ছে হাওরের পর্যটন সম্ভাবনা।

এ বিষয়ে ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান ‘তাঁবু-ট্যুর’-এর প্রধান নির্বাহী জাফর তুহিন মানবজমিনকে বলেন, কিশোরগঞ্জের হাওরকে পর্যটনবান্ধব করতে হলে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। হাওর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের এক অপূর্ব লীলাভূমি। এখানে প্রকৃতি তার সবকিছু আমাদের উজাড় করে দিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, আমরা সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারিনি। তাই হাওরের ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যটন সেবা তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো হাওর এলাকাও একদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠবে।

ট্যাগসমূহ:

sattar

২ মাস আগে

পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপারটা,,,,

মন্তব্য করুন