ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার বাসার নিজ ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে তার লাশের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। তাতে লেখা ছিল- ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেয়া গিফটগুলো ফেরত দেয়া’। এ ছাড়া আত্মহত্যার ঠিক আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে মিমোর মোবাইল ফোনে ৬ মিনিটের কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন- ওই শিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল মিমোর।
সম্প্রতি ওই শিক্ষক একই ডিপার্টমেন্টের আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন। ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বের জেরেই আত্মহত্যা করতে পারেন মিমো।
নিহত শিক্ষার্থী মিমোর মা তাহমিনা আক্তার বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার ডাইয়ারচর গ্রামে। আমার স্বামীর নাম মো. গোলাম মোস্তফা। আমার দুই মেয়ে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর বাড্ডায় নিজ ফ্ল্যাটে বসবাস করি। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়ে মিমো ঢাবি’র ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিল। সে তার রুমে একাই থাকতো। সাধারণত প্রতিদিন দরজা খোলা রেখেই ঘুমাতো মিমো। কিন্তু রোববার ফজরের আজানের পর ওর রুমের দরজা বন্ধ দেখে আমি অনেক ডাকাডাকি করি।
প্রথমে মনে করেছিলাম সে ভেতরে ঘুমাচ্ছে, তাই সাড়া দিচ্ছে না। কিন্তু অনেকক্ষণ ধরে জোরে ধাক্কা-ধাক্কির পরও দরজা না খোলায় আমাদের সন্দেহ হয়। এরপর আশপাশের লোকজনকে ডাক দিয়ে দরজা ভেঙে দেখি- আমার মেয়েটা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। এরপর আমরা বাড্ডা থানায় খবর দেই। ঘটনাস্থলে যাওয়া বাড্ডা থানার এসআই মোছা. ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, আমরা খবর পাওয়ার পর রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উদয় ম্যানশন নামে ওই বাসায় যাই। বাসাটির ৯ তলার একটি রুমের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করি। লাশের পাশে হাতে লেখা একটি চিরকুট পড়ে ছিল।
এরপর আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠাই।
এদিকে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর পেয়ে গতকাল সকালেই ওই বাসায় যান থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমাসহ ঢাবি শিক্ষকরা। তিনি বলেন, এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা শোকে আচ্ছন্ন। চিরকুটে লেখা সহযোগী অধ্যাপকের নামের বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে আত্মহত্যার আগে মিমোর লেখা চিরকুটে আমাদের বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী এবং মিমোর সহপাঠী উম্মে হানির নাম পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে আজকেই জানলাম। আমরা এতটুকু চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনায় যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়।
এদিকে এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র গুলশান বিভাগের বাড্ডা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া কিছু আলামতের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবং শিক্ষার্থী উম্মে হানিকে হেফাজতে নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মিমোর পরিবার বাড্ডা থানায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে এই বিষয়ে আমরা বিস্তারিত বলতে পারবো।
এদিকে মিমোর মৃত্যুতে ঢাবি’র থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। নাট্যকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল মিমো। তার মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সামছুল আলম
২ মাস আগেমেয়েটি মুসলিম হয়ে একটা হিন্দু লোকের সাথে প্রেম খেলায় মেতেছেন ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে ।
Md. Shahadat Hossain
২ মাস আগেনাম মুসলিমের হলেও এরা মুসলমান নয়। প্রগতির নামে যারা নিজেকে বিকিয়ে বেড়ায় তারা মুসলিম হতে পারে না।