১১ বছরেও মেলেনি ছেলে হত্যার বিচার

ফন্ট সাইজ:

আমার সন্তানের বিচার কি এ জন্মে পাবো না? এক যুগের কাছাকাছি সময় ধরে এই প্রশ্ন বুকে নিয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন নোয়াখালীর সুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহীন সুরমা। ছেলে একরাম হোসেন স্মরণ হত্যার বিচার না পেয়ে তিনি আজ ক্লান্ত, তবুও ন্যায়বিচারের আশায় লড়াই থামাননি। স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী-২০১৫ সালের ১লা জুন রাতে চাটখিল বাজারের মেসার্স মুন ফার্নিচার স্টোরে বার্নিশের কাজ করা একরাম হোসেন স্মরণকে একদল সন্ত্রাসী কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তার দু’টি পা ভেঙে দেয় এবং দাঁতের মাড়ি উপড়ে ফেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে চাটখিল সদর হাসপাতাল, পরে মাইজদী হয়ে ঢাকায় নেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো যায়নি।

২০১৫ সালের ৫ই জুন রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্মরণের মা’র অভিযোগ-ঘটনার পর অভিযুক্তদের একটি পক্ষ প্রথমে সামাজিকভাবে মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি হুমকি দিয়ে বলে, সামাজিকভাবে না বসলে তোমাকেও তোমার বাকি সন্তানদের একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। এসব হুমকি উপেক্ষা করে তিনি ২০১৫ সালের ১৩ই আগস্ট আদালতে ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চাটখিল থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলার আসামিরা হলো-মিলন, সজীব, হুক্কা, মানিক, কামাল, হালিম, শাহজাহান, বিপ্লব, জান্নাতুল ফেরদৌস, বাবুল, রুবেল, কবির আহমদ, আক্তার ইসমাইল, তোফায়েল আহমদ অব্যাহতি পেলেও থামেনি মায়ের লড়াই। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর ২০২০ সালের ১৮ই নভেম্বর, নোয়াখালী আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাঈদী সব আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

এই আদেশে ভেঙে পড়েন সুরমা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার সন্তানের বিচার বুঝি এ জন্মে আর পেলাম না। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। আইনের প্রতি আস্থা রেখে ২০২১ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। আদালত তা গ্রহণ করেন। বর্তমানে ফৌজদারি রিভিশন মামলা ফৌজদারি কার্যবিধির ধারায় বিচারাধীন রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাটি এলাকায় বহুল আলোচিত। তাদের দাবি, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ও অর্থশালী হওয়ায় নিরাপত্তার অভাবে কেউ প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে সাহস পাচ্ছেন না। এদিকে ১১ বছর পার হলেও ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে সুরমা এখনো আশায় বুক বাঁধেন-একদিন হয়তো আদালত তার সন্তানের হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন