সাফ কোটা পুরোপুরি বাতিলের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছেন দেশের ফুটবলাররা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে দেয়া আগের দাবি সংশোধন করে এখন তারা ‘২+২’ ফর্মুলার নতুন এক প্রস্তাব দিয়েছেন। অর্থাৎ, একটি ক্লাবে দুইজন সাফ কোটার ফুটবলার এবং দুইজন সাধারণ বিদেশি কোটার ফুটবলার রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। আজ বাফুফে ভবনে ফেডারেশনের দুই সদস্য আমিরুল ইসলাম ও শাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে ফুটবলারদের প্রতিনিধিদলের এক বৈঠকের পর এই নতুন প্রস্তাবের কথা জানা যায়।
চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লীগে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ ফুটবলারকে ‘স্থানীয় খেলোয়াড়’ হিসেবে খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর বাইরে বিদেশি কোটায় আরও তিনজন খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। ফুটবলারদের অভিযোগ ছিল, সাফ কোটায় পাঁচজন বিদেশি ‘স্থানীয়’ হিসেবে খেললে প্রকৃত স্থানীয় ফুটবলারদের খেলার সুযোগ কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ক্লাবগুলো কম পারিশ্রমিকে সাফের খেলোয়াড় পাওয়ায় এই নিয়ম বহাল রাখতে আগ্রহী।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের নেতৃত্বে আজ ফুটবলারদের একটি প্রতিনিধিদল বাফুফে কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় বসেন। সভা শেষে মামুনুল ইসলাম বলেন,‘আগেরবার যখন বাফুফের কাছে চিঠি দেওয়া হয়, আমি তখন ঢাকায় ছিলাম না। ফুটবলারদের সাফ কোটা বাতিলের দাবিকে আমি ভিন্নভাবে দেখতে চাই। আমরা চাই ক্লাব ও ফুটবলার, দুই পক্ষের স্বার্থই রক্ষিত হোক। তাই আমরা এখন দুটি সাফ কোটা ও দুটি বিদেশি কোটা রাখার প্রস্তাব দিয়েছি। ফেডারেশন যেন আমাদের দাবিটি বিবেচনায় নেয়, সেটাই আমাদের চাওয়া।’ সাফ অঞ্চলের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হয়েছে।’
ফুটবলারদের এই ইতিবাচক অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাফুফে। ফেডারেশনের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ২৫ জন ফুটবলারকে ডেকেছিলাম, ২২ জন এসেছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, ফুটবলারদের অবস্থানও বেশ ইতিবাচক। বিষয়টি বাফুফে সভাপতিকে জানানো হবে এবং পরবর্তী নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
নতুন প্রস্তাবটি ফুটবলাররা খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির প্যাডে না দিয়ে সাদা কাগজে জমা দিয়েছেন। যেখানে জাতীয় দলের ইব্রাহিম, মিতুল মারমা, মেহেদি মিঠুসহ ২০ জন ফুটবলার স্বাক্ষর করেন।
