ফ্লোরিডার জোড়া খুনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ফ্লোরিডার জোড়া খুনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাহিদ লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টির হত্যার ঘটনায় কমিউনিটি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীদের আবাসন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, অফ-ক্যাম্পাস বাসস্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। বিশেষ করে যারা রুমমেটের সঙ্গে বসবাস করেন, তাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে । তবে আতংকিত না হয়ে সচেতন ও সতর্ক থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহবান ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ।

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ড শুধু ফ্লোরিডা নয় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাংলাদেশী কমিউনিটি বিশিষ্টজনরা বলছেন লিমন -বৃষ্টিকে ১০ দিনেও জীবিত উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়া তারা হতাশ ।

ফ্লোরিডা বাসিন্দা বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব তাহের রাশু মানবজমিনকে জানান লিমন-বৃষ্টির হত্যার ঘটনা একটা বড় সতর্কবার্তা। কারন এখানে অনেক আন্তজার্তিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া যারা নতুন প্রজন্ম আছে আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হবে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা শংকিত। তিনি জানান শুরু থেকে যদি লিমন-বৃষ্টির সন্ধানে তৎপরতা চালানো হতো তাহলে হয়তো তাদেরকে আমরা জীবিত অবস্থায় পেতাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি তাদের লাশ পেতে হল আমাদের ।

নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাওহিদুল ভুইয়া জানান মেধাবী শিক্ষার্থীরাই পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে এমন হত্যাকাণ্ড নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

জাহিদ লিমন তার রুমমেটের দ্বারা হত‍্যার শিকার হওয়ার কারনে রুম মেট নিয়েও উদ্বিগ্ন অনেকে। আহমেদ শরীফুল আলম ইশতিয়াক জানান পড়াশোনার চাপে এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অপরিচিত বা অল্প পরিচিতদের সাথে রুম শেয়ার করতে হয়, যা অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ বাসস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে ।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের রুমমেট বাছাই এবং উভয়ের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যালোচনার জন্য নিয়মিত বিশেষ কাউন্সিলিং সেবার প্রয়োজন বলেও মনে করেন ক্যালিফোর্নিয়া অবস্থান‍রত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সালেহা ইভা। তার মতে রুমমেট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সেই সাথে কোনো শিক্ষার্থী বিপদ অনুভব করলে সে যেন দ্রুত স্থানীয় পুলিশ বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক সহায়তা পায়, সেই নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করা আহ্বান তাদের।

তবে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা মানবজমিনকে জানান, লিমন-বৃষ্টি হত‍্যাকাণ্ড শুধু পরিবারকে নয় পুরো বাংলাদেশী কমিউনিটিকে উদ্বিগ্ন করেছে। তবে ভয় না করে সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা দরকার বলে মনে করেন তিনি ।

ফ্লোরিডার ঘটনার পর শুধু বাংলাদেশি নয়, অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরাও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে যাতে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার ব‍্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান শিক্ষার্থীদের।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির নৃশংস হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবেইহকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিখোঁজের ১০ দিন পর সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত হিশাম ভিকটিম লিমনের রুমমেট বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার তথ্যে শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় । এরপর হিশামের বাসা থেকেই নাহিদা বৃষ্টির মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন