দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনের একটি কারখানায় এক বাংলাদেশি শ্রমিককে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে ওই বাংলাদেশি শ্রমিকের নাম, পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য কোরিয়া হেরাল্ড। এতে আরও বলা হয়, কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং নাগরিক সংগঠনগুলো অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর বারবার হওয়া নির্যাতন ঠেকাতে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে। এর আগে থাই এক শ্রমিককে নিয়ে আরেকটি ঘটনার পর এই নতুন ঘটনাটি শ্রমিক নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার তারা ওই টেক্সটাইল কারখানায় বিশেষ শ্রম পরিদর্শন শুরু করেছে। সেখানে এক নির্বাহী কর্মকর্তার ছেলে বাংলাদেশি ওই শ্রমিককে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে শুক্রবার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি, যাকে ব্যবস্থাপক বলে মনে করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশি শ্রমিককে চড় মারছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি তিনি রেকর্ড করছেন।
কোরিয়ান কনফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নস (কেসিটিইউ) জানায়, ভুক্তভোগী শ্রমিক ই-৯ ভিসাধারী, যা বিদেশিদের অদক্ষ শ্রমে কাজ করার অনুমতি দেয়। শ্রমমন্ত্রী কিম ইয়ং-হুন বলেন, বিদেশি শ্রমিকদের ওপর সহিংসতা, বিশেষ করে যখন তা রেকর্ড করে ছড়ানো হয়, তা শুধু শ্রম অধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অপরাধ। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কারখানাটিতে শ্রমিক সুরক্ষায় কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শ্রমিকের ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে অস্থায়ী আশ্রয় ও কর্মস্থল পরিবর্তনের সহায়তা দেয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়োগকর্তা বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের যোগ্যতা হারাতে পারেন।
ইনচন সেওবু পুলিশ স্টেশন মারধরের অভিযোগে তদন্ত করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শ্রমিক জানিয়েছেন, কাজের সময়ের বাইরে ব্যবস্থাপকের ফোন ধরতে না পারার কারণে তাকে মারধর করা হয় এবং এর আগেও এমন হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। এর আগে গিয়ংগি প্রদেশের হাওয়াসংয়ে আরেক ঘটনায় এক থাই শ্রমিকের শরীরে কমপ্রেসড এয়ার ব্যবহার করে আঘাত করার ফলে তার অন্ত্রে গুরুতর ক্ষতি হয়। নাগরিক সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি পর্যাপ্ত পদক্ষেপের অভাবে এসব নির্যাতন বারবার ঘটছে।
কেসিটিইউ উইমেনস কমিটির কওন সু-জং সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, আবারও দেখা যাচ্ছে, অভিবাসী শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের বদলে গণমাধ্যমের শরণ নিচ্ছেন- এটি আইনশৃঙ্খলা ও শ্রম সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। রাজনীতিবিদরাও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির সংসদ সদস্য পার্ক চ্যান-দে স্থানীয় সরকারগুলোর ওপর আরও দায়িত্ব দেয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, শ্রম পরিদর্শনে তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারগুলো, যারা মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো জানে, তাদের আরও দায়িত্বশীল ও কঠোর তদারকি করা উচিত।
