দিল্লি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিনে আগুন লাগায় একটি সুইস ফ্লাইটের টেকঅফ বাতিল করা হয়েছে। এতে বিমানে থাকা ছয়জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, রানওয়েতেই জরুরি স্লাইড ব্যবহার করে সব যাত্রীকে দ্রুত সরিয়ে নেয়া হয়। ফ্লাইটটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে যাওয়ার কথা ছিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
ফ্লাইট নম্বর এলএক্স১৪৭, একটি এয়ারবাস এ৩৩০, শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৮ মিনিটে টেকঅফ শুরু করার সময় একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং আগুন ধরে যায়। এক বিবৃতিতে সুইস এয়ার জানায়, দিল্লিতে এলএক্স১৪৭ ফ্লাইট সংক্রান্ত একটি ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। সংশ্লিষ্ট বিমানটি একটি এয়ারবাস এ৩৩০, নিবন্ধন নম্বর এইচবি-জেএইচকে। এ ঘটনায় আমরা একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছি। বিমানে ২২৮ জন যাত্রী ও চারজন শিশু ছিল। বিমান সংস্থাটি আরও জানায়, ভারতের স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টার কিছু পর, উড্ডয়নের ঠিক আগে একটি ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়। ক্রুরা টেকঅফ বাতিল করেন এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান খালি করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে ছয়জন যাত্রী চিকিৎসা নিচ্ছেন, তবে ক্রু সদস্যরা অক্ষত রয়েছেন।
দিল্লি বিমানবন্দরের এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেসব যাত্রী জরুরি স্লাইড ব্যবহার করতে পারেননি, তাদের জন্য সিঁড়ির ব্যবস্থা করা হয় বলে জানায় সুইস এয়ার। বর্তমানে যাত্রীদের সহায়তা করা হচ্ছে এবং তাদের পুনরায় বুকিং বা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় টিম কাজ করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, যাত্রীদের যোগাযোগ কার্ড দেয়া হয়েছে, যাতে আমরা তাদের সঙ্গে নির্ভরযোগ্যভাবে যোগাযোগ রাখতে পারি। এ ধরনের পরিস্থিতি সবার জন্যই মানসিক চাপের। আমাদের স্থানীয় টিম যাত্রীদের পাশে রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে। আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।
সুইস এয়ার জানায়, কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা পুরোপুরি বোঝার জন্য তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা দিল্লিতে গিয়ে বিমানটি পরীক্ষা করবেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। বিমান সংস্থাটি আরও জানায়, একই সঙ্গে আমরা সব যাত্রীর জন্য দ্রুত ও উপযুক্ত বিকল্প ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে কাজ করছি। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
