মহেশপুরে আফগান নাগরিকের লাশ নিয়ে রহস্য

ফন্ট সাইজ:

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি আফগানিস্তানের নাগরিক হাশমত মোহাম্মদির। এ ঘটনায় জনগণের প্রশ্ন উঠেছে এ সীমান্ত পথটি তাহলে কি এখন আন্তর্জাতিক মাফিয়া বা মানব পাচারকারী চক্রের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। তা না হলে আফগানিস্তানের নাগরিক হাশমত মোহাম্মদির লাশটি কীভাবে মহেশপুর সীমান্তে এলো। আর এর সঙ্গে মহেশপুর সীমান্তে কারাই বা জড়িত?

মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে দু’টি উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর এই উদ্বেগ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি কোন স্থানীয় নাগরিক নন, বরং সুদূর ইতালিতে বসবাসরত আফগান নাগরিক, যিনি দালাল চক্রের প্রলোভনে প্রাণ হারিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ই এপ্রিল মহেশপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবি ও পুলিশের খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠায়। পিবিআই আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজে কোনো মিল না পাওয়ায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে ১৪ই এপ্রিল ঝিনাইদহ কবরস্থানে দাফন করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে নিহতের ভাই আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মদ ইরা নিশ্চিত করেন যে, এটি তার ভাই হাশমত মোহাম্মদির লাশ। তিনি বলেন, হাশমত আফগানিস্তানের নাগরিক হলেও ইতালি পাসপোর্টধারী ছিলেন।

ভারত থেকে পাথর নিয়ে ইউরোপে ব্যবসার সুবাদে তিনি ভারতে যাতায়াত করতেন। এই ব্যবসা করতে গিয়ে নিহত হাশমতের ভারতীয় পার্টনারের সঙ্গে মারামারি হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে ভারতীয় পুলিশ হাশমতকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছর মামলা চলার পর ভারতীয় আদালত হাশমতকে বেকসুর খালাস দিলেও দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। এ সময় তার সঙ্গে যশোর এলাকার মানব পাচারকারী মাসুম ও ভারতের পাচারকারী পুরাব হেলা নামে দু’জনের পরিচয় হয়। মাসুম তাকে পরামর্শ দেয় ভারতীয় সীমান্তে পার হয়ে বাংলাদেশে গেলে সেখান থেকে সে ইতালি চলে যেতে পারবে।

মাসুমের পরামর্শে হাশমত গত ১১ই এপ্রিল অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তে আসেন। সীমান্তে এসে হাশমত তার আমেরিকা প্রবাসী ভাইকে ফোন করে জানান সামনে একটা ইছামতি নদী আছে এটা পার হলেই তিনি বাংলাদেশের প্রবেশ করতে পারবেন। এ সময় সীমান্তের মানব পাচারকারী মাসুম ও পুরাব হেলার হাতে আমেরিকা প্রবাসী ভাইয়ের কথাও হয়। মোহাম্মদ ইরার ভাষ্যমতে কিছুক্ষণ পর ভাইয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি এ সময় মাসুমের ফোনও বন্ধ পান।

কয়েকদিন পর মাসুমের সঙ্গে মোহাম্মদ ইরার কথা হয়। মাসুম তাকে দুইটা ছবি পাঠিয়ে জানায় আপনার ভাই মারা গেছেন। বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর থেকে মাসুমের ফোনটি বন্ধ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে হাশমতের কাছে থাকা অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নিতাই দুই মানব পাচারকারী মাসুম ও পুরাব হেলা নদীতে চুবিয়ে হাশমতকে হত্যা করতে পারে। এ বিষয়ে মহেশপুর থানার এসআই টিপু সুলতান জানান, ২২শে এপ্রিল জনৈক আহসানের মাধ্যমে তিনি মোহম্মদ ইরার সঙ্গে কথা বলে লাশটি তার ভাইয়ের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন। তার এক ভাই লন্ডন প্রবাসী, তিনি বাংলাদেশে আসার জন্য ভিসাসহ অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুতও করছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন