‘সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ’ শিরোনামে মানবজমিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কক্সবাজার আদালতে উচ্ছেদ মামলা দায়ের করেছে বনবিভাগ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি শুধুই দায়সারা পদক্ষেপ- বাস্তবে অবৈধ দখল থামাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণে নীরব সম্মতি দিচ্ছেন। ফলে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে একের পর এক বহুতল ভবন গড়ে উঠছে।
অভিযোগ আরও গুরুতর ইয়াবা কারবারির একটি শক্তিশালী চক্র বনভূমির জায়গায় বিশাল বিশাল ভবন নির্মাণ করছে, আর বনবিভাগ কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের দু’পাশে বনবিভাগের জমিতে ইতিমধ্যে শতাধিক বাড়ি ও বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ স্থাপনা থাকলেও কোনো কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান চোখে পড়ছে না।
গত ১৬ই এপ্রিল রাতে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম শাহিন জানান, মোহাম্মদ হারুন ও মোহাম্মদ মামুনের বিরুদ্ধে বনভূমি দখলের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, শুধু মামলা দিয়েই কি দায়িত্ব শেষ? নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকলেও কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না? বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, লোকবল ও প্রশাসনিক সহযোগিতা না থাকায় উচ্ছেদ সম্ভব হচ্ছে না। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে অর্থনৈতিক লেনদেনই মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম শাহিন বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, প্রয়োজন হলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বনভূমি দখল এখন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বনবিভাগের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশ ছাড়া এভাবে প্রকাশ্যে শতাধিক স্থাপনা গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক অভিযান না হলে বনভূমি পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
