রিশাদের গুগলিতে নজর মুশতাকের

রিশাদের গুগলিতে নজর মুশতাকের

ফন্ট সাইজ:

ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এবার কিউইদের টি-টোয়েন্টি মাত দেয়ার পালা। র‌্যাঙ্কিংয়ে তলানিতে থাকলেও, ঘরের মাঠে টাইগাররা বরাবরই ভয়ঙ্কর। যে কাউকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে তারা প্রস্তুত। টাইগার শিবিরে এই সিরিজে বড় অস্ত্র হতে পারে লেগ স্পিন অলরাউন্ডার রিশাদ হোসেন। তবে এখনো এই লেগির আছে নানা দুর্বলতা। বিশেষ করে গুগলিতে উন্নতি প্রয়োজন। যে কারণে দলের স্পিন বোলিং মাস্টার মুশতাক আহমেদের নজরটা রিশাদের দিকেই। স্পিন বোলিং কোচ তাকে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। পাকিস্তান সুপার লীগ ও সদ্য সমাপ্ত নিউজিল্যান্ড সিরিজে বল হাতে খুব উজ্জ্বল ছিলেন না এই তরুণ লেগি।

তাই চট্টগ্রামে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে গতকাল অনুশীলনে রিশাদের বোলিংয়ে সূক্ষ্ম পরিবর্তনের দিকে নজর দেন মুশতাক। বিশেষ করে গুগলি, বোলিং ক্রিজের ব্যবহার এবং বৈচিত্র্য আনার কৌশল নিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছেন তারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন মঞ্চে একজন লেগ স্পিনার অনেক সময় খরুচে হয়ে যান। তাই রান আটকে উইকেট শিকারে নিখুঁত অ্যাঙ্গেলের বিকল্প নেই। ডানহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে স্টাম্পের কতটা কাছে বা দূরে বল ফেলতে হবে, সেটিই এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। অ্যাকশন নিখুঁত করার মাধ্যমে তাকে সফল হতে হবে। শুধু ভালো বল নয়, বরং একটি ভালো ওভার করতে পারাই হবে তার আসল লক্ষ্য। মুশতাক তার শিষ্যের উন্নতি নিয়ে বেশ আশাবাদী। নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে মুশতাক বলেন, ‘ভ্যারিয়েশন, ক্রিজ ব্যবহার আর গুগলি এই তিনটি জায়গায় আমরা কাজ করছি। গুগলিটা আরও উন্নত করা দরকার, বিশেষ করে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে কোন অ্যাঙ্গেলে, স্টাম্পের কাছে নাকি বাইরে বল করা উচিত এসব নিয়ে আমাদের কাজ চলছে।’ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণ বোলিং করার পরও শেষ ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাননি রিশাদ। তার বদলে মাঠে নামেন তানভীর ইসলাম। ফর্মহীনতা নয়, বরং বেঞ্চের শক্তি পরখ করতেই টিম ম্যানেজমেন্টের এই কৌশল। দলের স্পিনাররা সবাই যেন পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পান, সেটি নিশ্চিত করতে চান মুশতাক। তবে একাদশ থেকে বাদ পড়লে খেলোয়াড়দের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টিকে থাকার প্রধান শর্তই হলো ইস্পাতকঠিন মানসিকতা। দক্ষতা একজন ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে সুযোগ করে দিতে পারে। কিন্তু তাকে দীর্ঘকাল টিকিয়ে রাখে মানসিক দৃঢ়তা। তাই রিশাদকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মুশতাক বলেন, ‘কখনো কখনো আপনাকে বাইরে বসতে হয়, আর তখন আপনার মানসিকতা কেমন হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কোচ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তাকে মানসিকভাবে শক্ত করা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসলে মানসিকতার খেলা। তাই আমাদের লক্ষ্য হলো তাকে আরও শক্ত মানসিকতার করে গড়ে তোলা।’ শুধু রিশাদ নন, দলের অন্যান্য স্পিনারদের নিয়েও তৃপ্ত মুশতাক। টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে থাকা নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদী হাসান নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়ানডেতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। মিরাজ নিজেকে কেবল রান আটকে রাখা বোলারে সীমাবদ্ধ রাখেননি। নিজের বোলিংয়ে চমৎকার বৈচিত্র্য এনেছেন তিনি। ওভারস্পিন কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার টম ল্যাথামকে আউট করেছেন মিরাজ।

পশ্চিমা ব্যাটারদের হাতের গতি অনেক বেশি থাকে। তাই তাদের বোকা বানাতে গতির পরিবর্তন ও নিখুঁত অ্যাঙ্গেল দরকার। স্পিনারদের মূল কাজ হলো মাঝের ওভারগুলোতে চেপে ধরা। ঠিক যেমনটা ব্যাটিংয়ের সময় জুটির প্রয়োজন হয়, তেমনি বোলিংয়ের সময় স্পিনারদের মাঝে দারুণ বোঝাপড়া থাকতে হবে। ফাস্ট বোলাররা উইকেট এনে দিলে স্পিনারদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। স্পিন জুটির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে মুশতাক বলেন, ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে মাঝের ওভারগুলোতে স্পিনারদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার স্পিনাররা যদি মাঝের ওভারগুলোতে খুব ভালো বল করে, তবে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।’ সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেদের একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এখন বেশ আনন্দদায়ক। জয়ের এই ধারা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও অব্যাহত রাখতে চায় দল। দলের বেঞ্চ আরও শক্তিশালী করার জন্য নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সামনে বড় কোনো টি-টোয়েন্টি আসর নেই, তবে এই সংস্করণের সাফল্য তরুণদের আত্মবিশ্বাসের রসদ জোগাবে।

পরবর্তীতে তারা জাতীয় দলের হয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটেও এই অভিজ্ঞতা দারুণভাবে কাজে লাগাতে পারবেন। তাই তরুণ ক্রিকেটারদের নিজেদের মেলে ধরার সেরা প্ল্যাটফর্ম হলো এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। প্রতিটি ম্যাচে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে খেলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য মজবুত একটি কাঠামো তৈরি করাও টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান চিন্তার জায়গা। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে মুশতাক বলেন, ‘আপনাকে আপনার সাদা বলের ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ম্যাচ জেতার চেষ্টার পাশাপাশি বেঞ্চের শক্তি বৃদ্ধি করাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে এই ভারসাম্যটা বজায় রাখতে হবে।’




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন