সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপি’র চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকায় কুমিল্লার নাম নেই

ফন্ট সাইজ:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি’র চূড়ান্ত ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকায় নাম নেই কুমিল্লা জেলা বা মহানগর বিএনপি’র কোনো নেত্রীর। এতে হতাশা দেখা দিয়েছে দলটির তৃণমূল পর্যায়ে। মনোনয়নপ্রত্যাশী নারী নেত্রীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে দল ক্ষমতার বাইরে থাকলেও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক কাজ এবং ব্যক্তিগত ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।

জানা গেছে, কুমিল্লা বিএনপি ঐতিহ্যগতভাবে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ইউনিট হিসেবে পরিচিত। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দল ক্ষমতার বাইরে থাকলেও জেলার নারী নেত্রীরা নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বিএনপি’র বিভিন্ন আন্দোলনে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, গ্রেপ্তার-হামলা ও একাধিক মামলার মুখোমুখী হয়েছেন। এমন বাস্তবতায় সংরক্ষিত নারী আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কুমিল্লার প্রতিনিধিত্ব না থাকা অনেকের কাছেই ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘হতাশাজনক’ বলে মনে হচ্ছে। এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে তফসিল ঘোষণার পরপরই কুমিল্লা থেকে ২৯ নারী নেত্রী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণকারী এই নেত্রীরা হলেন, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য কর্নেল আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলা, র‌্যাবের হাতে গুম হওয়া কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার তৎকালীন বিএনপি’র সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের সহধর্মিণী শাহনাজ আক্তার, কুমিল্লা জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি সাকিনা বেগম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী এডভোকেট সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, দেবীদ্বার উপজেলার বাসিন্দা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট রেহেনা পারভীন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কালিয়াজুরী এলাকার রায়হান রহমান হেলেন এবং কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা কাজী নাজিয়া হক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে কুমিল্লার ১১টি আসন থেকে আবেদন করা ২৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীর কেউ মনোনয়ন পাননি। অপর দিকে মনোনয়ন বঞ্চিত কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও সাবেক দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারমান সুফিয়া বেগম বলেন, কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার আসন থেকে আমিসহ ৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও কেউ মনোনয়ন পাননি। আমার সঙ্গে ছিলেন, কুমিল্লা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর স্ত্রী মাজেদা আহসান মুন্সী, ছেলে ব্যারিস্টার রিজভিউল আহসান মুন্সীর স্ত্রী ফারজানা বুবলী, সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এডভোকেট ফেরদৌস আক্তার ওয়াহিদা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট রেহানা পারভীন।

তাছাড়া কুমিল্লা সদর আসনের চারজন, বুড়িচং-ব্রাক্ষণপাড়া আসনে দুজন, লাকসাম, বরুড়া, নাঙ্গলকোট, তিতাস একজন করে, দাউদকান্দিতে পাঁচজন, হোমনা তিনজন, মেঘনায় দু’জনসহ ৩০ জন। এদিকে দেবীদ্বার উপজেলা থেকে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তাদের কেউই মনোনয়ন পাননি। এরমধ্যে একজন মনোনয়ন জমা দেননি। বাকি ২৯ জন মনোনয়ন নিলেও কেউই পাননি। তবে দেবীদ্বারের পুত্রবধূ সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা থেকে আবেদন করে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন পান। সেলিমা রহমান কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের কুরছাপ গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির আব্দুল হামিদ ভূঁইয়ার পুত্রবধূ এবং বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী এম এ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী। বর্তমান সময়ে পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন। জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু হামলা মামলার স্বীকার হয়েছেন ও কারাভোগ করেছেন। সেলিমা রহমান বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন