স ত র্ক বা র্তা

স ত র্ক বা র্তা

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জে উজানের পাহাড়ি ঢল ও সম্ভাব্য অকাল বন্যার আশঙ্কায় আগামী ২৮শে এপ্রিলের মধ্যে ধান কাটার নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। একইসঙ্গে ২৬শে এপ্রিল থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে এবং আগামী ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। শনিবার সকাল থেকে জেলা জুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড় বইছে। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কৃষক-কৃষাণিদের হাওর ও কলার মধ্যে কাটা ধান নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা গেছে। সুনামগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা যায়, গত দুইদিনে চেরাপুঞ্জিতে ৩৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। উজানে বৃষ্টি হলে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটাসহ অন্যান্য নদ-নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়।

ফলে যেকোনো সময় পাহাড়ি ঢল নেমে হাওর এলাকায় অকাল বন্যা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় জমির ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই আগামী ২৮শে এপ্রিলের মধ্যে দ্রুত কাটার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন- কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অন্য বছর এ সময়ে প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে যায়, এবার হয়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশ। কৃষকরা ধান কাটতে পারবেন এটি আমাদের জন্য লজ্জার হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ২০ থেকে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত সুনামগঞ্জের সব বালুমহাল এবং তাহিরপুর সীমান্তে থাকা তিনটি শুল্কস্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন- গত শুক্রবার রাত থেকেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে।

আবার ২৮শে এপ্রিল থেকে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বর্তমানে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৫ দশমিক ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে ভারী কিংবা অতিভারী বৃষ্টি হলে আগাম বন্যার শঙ্কা রয়েছে এবং আগাম বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য সকল কৃষককে ২৮শে এপ্রিলের আগেই পাকা ধান কাটার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে।

তবে শুরু থেকেই এসব কাজের অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টন। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত ৩৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তবে হাওরের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি জমিতে এখনো ধান রয়ে গেছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল হক অভিযোগ করে বলেন- বাঁধ নির্মাণের নামে সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। বাঁধের কাজে অনিয়ম ঢাকতেই কৃষকদের কাঁচা ধান কাটতে তাগাদা দেয়া হচ্ছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন