বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই শুরুর আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মানবাধিকার অঙ্গন। সম্প্রতি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু নাগরিক অধিকার সংগঠন এক নজিরবিহীন ‘ভল্ড কাপ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি’ বা ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ক্রমবর্ধমান ‘কর্তৃত্ববাদের’ কারণে বিদেশি পর্যটকরা যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, ফিফা বা মার্কিন সরকার দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয়ে ‘কংক্রিট গ্যারান্টি’ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, পর্যটকরা বিনা কারণে প্রবেশাধিকার বঞ্চিত হতে পারেন। এমনকি অমানবিক পরিবেশে আটক থাকা বা ব্যক্তিগত ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তল্লাশির শিকারও হতে পারেন। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো এবং মিনিয়াপোলিসের মতো শহরগুলোতে সাম্প্রতিক অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ফলে বর্ণবৈষম্য ও ধরপাকড় বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৭ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। তবে ট্রাম্পের ‘ট্রাভেল ব্যান’ বা ১৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে এই সংখ্যায় ভাটা পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে পর্যটন কর্মকর্তারা এই সতর্কবার্তাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান জিওফ ফ্রিম্যান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি, এমন ধারণা ভুল। এটি মূলত অর্থনৈতিক ক্ষতি করার একটি কৌশল।’
টিকিটের বাজারে অস্থিরতা
এদিকে, বিশ্বকাপের টিকিট এখন বিক্রি হচ্ছে আকাশচুম্বী মূল্যে। ফিফার অফিসিয়াল রিসেল মার্কেটে ফাইনালের চারটি টিকিট বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর প্রত্যেকটির দাম চাওয়া হচ্ছে ২৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। ফিফা তাদের এই রিসেল বা বিনিময় প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না। ফলে বিক্রেতা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাতে পারেন। তবে প্রতিটি লেনদেন থেকে বড় অঙ্কের লভ্যাংশ পায় ফিফা। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবর, ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে টিকিটের বাজারের অস্থিরতা এখনও কমেনি। এমনকি সবচেয়ে কম দামের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৩ লাখ টাকায়! তবে এতসবের মধ্যেও হোটেল ব্যবসায়ীরা এখনও আশানুরূপ বুকিং দেখতে পাচ্ছেন না।
আগামী ১১ই জুন থেকে শুরু হয়ে বিশ্বকাপ চলবে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত। ১১টি মার্কিন শহরসহ কানাডা ও মেক্সিকোতে এই মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
