লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম আবারও কেঁপে উঠবে সেই চিরচেনা গর্জনে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাকিস্তানের ক্রিকেট ভক্তদের সুসংবাদ দিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। আগামী ৩রা মে লাহোরের ঐতিহাসিক গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল) একাদশ আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে দর্শকপূর্ণ গ্যালারিতে।
চলমান বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কঠিন নীতি মেনে চলতি আসরের ম্যাচগুলো দর্শকহীন রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান সরকার। তবে টুর্নামেন্টের রোমাঞ্চ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের আবেগপূর্ণ অনুরোধে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করলো সরকার। আজ ও আগামীকালের চার ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে পিএসএলের লীগপর্ব। এরপর কোয়ালিফায়ার ও এলিমিনেটর ম্যাচের পর ৩রা মে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সেদিনই স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারবেন দর্শকরা। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বিশেষ বিবেচনায় ফাইনাল ম্যাচে শতভাগ দর্শকের উপস্থিতিতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি লেখেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে অনুরোধ করেছিলাম, যেন ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঠে ফেরার অনুমতি দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী জ্বালানী নীতির ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন থাকলেও, ক্রিকেটের প্রতি সাধারণ মানুষের আবেগ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে ফাইনাল ম্যাচে দর্শক প্রবেশের অনুমতি প্রদান করেছেন।’
উল্লেখ্য, এবারের আসরে কেবল করাচি ও লাহোর দু’টি ভেন্যুতে খেলা সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এর লক্ষ্য ছিল জনসমাগম ও যাতায়াত খরচ কমানো। মাঠে রোমাঞ্চকর সব লড়াই চললেও গ্যালারি ছিল জনশূন্য, যা লীগের জৌলুসকে কিছুটা ম্লান করে দেয়। এরপরই লীগের আমেজ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
লাহোর কালান্দার্সের আতিফ রানা বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেটের উৎসব পিএসএল, তবে ভক্তদের ছাড়া এটি অসম্পূর্ণ।’ করাচি কিংসের মালিক সালমান ইকবাল হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাতা মালিক হিসেবে খালি স্টেডিয়াম দেখা অত্যন্ত কষ্টের। পিএসএল চলে জনগণের শক্তির ওপর। দয়া করে তাদের মাঠে ফেরার অনুমতি দিন।’ এরপর ফাইনালের এই ঘোষণা পাকিস্তানের ক্রিকেট পাড়ায় নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসা করে নাকভি নিশ্চিত করেন যে, টুর্নামেন্টের পূর্বনির্ধারিত সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এছাড়া টিকিটের লভ্যাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাবে এবং সংশ্লিষ্ট যাবতীয় ব্যয়ভার পিসিবি বহন করবে।
