নীলফামারী জেলার অর্থনীতির চলন্ত চাকা সৈয়দপুর উপজেলা। এই উপজেলাটি রংপুর বিভাগের মধ্যে শিল্প সমৃদ্ধ। জেলার মোট রাজস্ব আয়ের শতকরা ৭৫ ভাগ জোগান দেয়া হয় সৈয়দপুর উপজেলা থেকে। অথচ সেই উপজেলার শিল্পনগরীতে চলছে অব্যাহত লোডশেডিং। এমন অবস্থায় সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীসহ স্থানীয় সব কলকারখানায় উৎপাদনে ধস নেমেছে। এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্প মালিকরাই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। চলমান এ লোডশেডিংয়ে চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থীদেরও পড়ালেখায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চলছে ত্রাহি অবস্থা। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নামে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ করা হচ্ছে দোকানপাট। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার চাপ কমাতে আলো ও ফ্যানের নিচে বসে বই পড়ার কথা।
কিন্তু বিদ্যুতের ভেলকিবাজি অধ্যায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা জানান, পেটের ব্যথা বা জ্বর সহ্য করা যায়- কিন্তু লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা হাসপাতালে অসহ্য হয়ে উঠেছে। ক্ষুদ্র শিল্প ব্যবসায়ী ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আকতার হোসেন ফেকু জানান, প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং হওয়াতে আমাদের মতো ক্ষুদ্র শিল্প মালিকরা কঠিন দুঃসময় পার করছি। সৈয়দপুর শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে নিরবচ্ছিন্ন না থাকায় শিল্প মালিকদের নাভিশ্বাস চলছে। আমাদের এমনও মেশিন আছে যা চালু করতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। অথচ তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর শুরু হয় লোডশেডিং। ফলে আমরা উৎপাদন করার সুযোগ পাই মাত্র দেড় ঘণ্টা। ওই ব্যবসায়ী নেতার মতে, বর্তমান বাস্তবতায় লোডশেডিং দেয়া হোক, তবে কমপক্ষে আট ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার পর, বিশেষ করে বিসিক শিল্পনগরীতে। এমন অবস্থা চললে আমরা তিন শিফটের জায়গায় কারখানা দুই শিফট চালাবো। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন সিকিভাগে ঠেকলেও ভ্যাট, আয়কর, পরিবেশ, কলকারখানা পরিদর্শক, পৌর কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআই কর্মকর্তাদের চাপ পূর্বের তুলনায় বর্তমান সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়াও ব্যাংকের ঋণ এবং ব্যাংকের সুদের টাকা ব্যবসায়ীদের করছে নাজেহাল। এ ব্যাপারে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি’র (নেসকো) সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম সেলিম বলেন, আমরা শিল্প কারখানায় বেশি বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চাই। নেসকো কর্তৃপক্ষ শিল্প মালিকদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিক্রি করে বেশি মুনাফা করে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তা সম্ভবপর নয়। তারপরও উৎপাদন অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে। ওই কর্মকর্তার মতে, আমাদের জুড়িডিকশনে ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুতের প্রয়োজন কমপক্ষে ৪৫ মেগাওয়াট। সেখানে গড়ে ৮ থেকে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে ন্যাশনাল গ্রিড থেকে। তাই ওই বিদ্যুৎ দিয়েই সৈয়দপুর সেনানিবাস, সৈয়দপুর বিমানবন্দর, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীসহ ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিল্প মালিকদের তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আপনাদের চাহিদার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
