সিলেটের প্রকাশক পরিষদের বইমেলা বাতিল করে দিয়েছে পুলিশ। সপ্তাহব্যাপী এই মেলার অনুমতি দেয়ার পর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাতিল করা হয়েছে। তবে পুলিশ আইনশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ তুলে মেলা বাতিলের কথা জানিয়েছে। শুক্রবার থেকে থেকে ২রা মে পর্যন্ত সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বইমেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখিয়ে এই অনুমতি বাতিল করেছে বলে একটি পত্র মারফত জানিয়েছে। ইতিমধ্যে মেলার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল।
এ অবস্থায় অনুমতি বাতিল করায় প্রকাশক পরিষদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বইমেলায় ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের’ সংশ্লিষ্টতা এবং বিতর্কিত প্রকাশনীকে স্থান দেয়ার অভিযোগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী নেতৃবৃন্দ। অভিযোগ উল্লেখ করা হয়-প্রকাশক পরিষদ সিলেট’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই বইমেলার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ও সভাপতি নাজমুল হক নাজু এবং কয়েকজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সরাসরি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
নাজমুল হক নাজু পলাতক যুবলীগ নেতা আব্দুর রহমান জামিলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং অতীতে তিনি শহীদ মিনারে বিরুদ্ধ মতাদর্শের লেখকদের কণ্ঠরোধ করতে দাপট প্রদর্শন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক কর্মীদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্টভাবে তিনটি প্রকাশনী ‘ঘাস’, ‘চৈতন্য’ ও ‘অভ্র’কে মেলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়- চৈতন্য প্রকাশনী এর মালিক রাজীব চৌধুরী সরাসরি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারে জড়িত ছিলেন এবং সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও আসাদুজ্জামান কামালের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতেন। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা বইমেলার বিরোধী নই, তবে শহীদ মিনারের পবিত্র আঙিনায় স্বৈরাচারের দোসরদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বিএনপি সিলেট বিভাগের সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির সাবেক সদস্য সাজন আহমদ সাজু এবং সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জুবায়ের আহমদ।
