নাটোরের লালপুরে গ্রীষ্মের খরতাপের মধ্যেই ১৫-১৬ ঘণ্টার ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিপাকে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী, সাধারণ শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্কসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, লালপুরে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসের আদ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। এমন তাপপ্রবাহ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সরজমিন জানা যায়, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
ফলে পরীক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতিতে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। এদিকে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, খামারি ও কৃষকরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অতিরিক্ত গরমে গত সাতদিনে প্রায় একশ’ মুরগি মারা গেছে জানিয়ে উধনপাড়া গ্রামের পোল্ট্রি খামারি মুক্তার হোসেন বলেন, দিনে ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে খামারের মুরগি টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। এতে লোকসানে পড়বেন তিনি। ঢুষপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক নুরুজ্জামান জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানে চার্জ দিতে পারছেন না তিনি। ফলে ভাড়া মারতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অতিরিক্ত গরমে শিশুরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া এবং বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে মানবজমিনকে জানান হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুরুজ্জামান শামীম।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে রোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে- তেমনি চিকিৎসাসেবা দিতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। এ অবস্থার দ্রুত উন্নতি হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, লালপুর জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম খান মানবজমিনকে জানান, উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকেরও কম। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এটি একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে সেটা এখন বলা সম্ভব নয়।
