জ্বালানি সংকটে সরকার রাষ্ট্রীয় অফিসে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে দেখা যায়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে কর্মকর্তাদের সকল দপ্তরে যথাসময়ে লাইট-ফ্যান-এসি চলছে। অথচ বেশির ভাগ দপ্তরেই অনুপস্থিত কর্মকর্তারা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সকল অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে গত বৃহস্পতিবার সরজমিন দেখা যায়, ৪০-৪৫ মিনিট পরও বেশির ভাগ কর্মকর্তা অনুপস্থিত। প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপাচার্য দপ্তরে উপাচার্য যথাসময়ে উপস্থিত হলেও উপাচার্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল ডেমোনস্ট্রেটর ও সেকশন অফিসার কর্মকর্তারা অনুপস্থিত অথচ ফাঁকা দপ্তরের সব লাইট-ফ্যান-এসি চলছে। একই চিত্র দেখা মিলে রেজিস্ট্রার দপ্তরের কর্মকর্তাদের রুমেও।
উপ-রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারদের বেশির ভাগ রুমই তালাবদ্ধ এবং কয়েকটিতে লাইট-ফ্যান চললেও নেই কোনো কর্মকর্তা। এদিকে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক, উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং সহকারী অডিট অফিসারদের বেশির ভাগ রুম ফাঁকা ও তালাবদ্ধ দেখা যায়। পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক এবং প্রকৌশল দপ্তরের উপ-প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ বেশির ভাগ কর্মকর্তাই অনুপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও অনুপস্থিত ছিলেন। দপ্তরগুলোর কর্মচারীরা জানান, কর্মকর্তাদের বহনকারী বাস আসতে দেরি হওয়ায় তাদের পৌঁছাতে দেরি হয়।
অথচ বাস বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পরও তাদের বেশ কয়েকজনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা অনুযায়ী, যথাসময়ে উপস্থিত না হওয়া বা সময়ের আগে অফিস ত্যাগ, এখন শুধু দায়িত্বহীনতা নয় বরং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, আবশ্যিকভাবে সবাইকে ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অফিস করতে হবে। আমরা নিয়মিত বিভিন্ন দপ্তরগুলোতে তদারকি করি। কেউ এক্সট্রিম পর্যায়ে গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
