নিহত রতিকান্ত’র শরীরে গুলিসহ একাধিক আঘাতের চিহ্ন

অভিযোগের তীর বিএসএফ’র দিকে

নিহত রতিকান্ত’র শরীরে গুলিসহ একাধিক আঘাতের চিহ্ন

ফন্ট সাইজ:

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকার ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক রতিকান্ত জয়ধরের শরীরে গুলিসহ একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ গুম করে রাখা হয়। সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় দুর্বৃত্ত ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে নিহতের ছোট ভাই রনজিত জয়ধর এজাহারে উল্লেখ করেছেন। গত ১৬ই এপ্রিল রাতে উপজেলার কাজিরবেড় ইউনিয়নের পলিয়ানপুর গ্রামের ইছামতি নদী থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রতিকান্ত গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার পলোটানা গ্রামের মৃত দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। এই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই রনজিত জয়ধর বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ই এপ্রিল রতিকান্ত মাদারীপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। গত ১২ই এপ্রিল থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরে গত ১৬ই এপ্রিল গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় তার লাশ পাওয়া গেছে। পুলিশ নিহতের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন দেখে পরিচয় নিশ্চিত করে। নিহতের ভাই মুঠোফোনে জানান, রতিকান্তের স্ত্রী ও সন্তানরা ভারতে বসবাস করায় তিনি পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্ত পার হয়ে ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার কাছে জমি বিক্রির ১২ লাখ টাকা ছিল। ১২ থেকে ১৬ই এপ্রিলের মধ্যে যেকোনো সময় ভারতীয় বিএসএফ অথবা অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে লাশ ইছামতি নদীর কচুরিপানার মধ্যে গুম করার উদ্দেশ্যে ফেলে রাখে। টাকার কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে রনজিত আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশপুর থানার এসআই মো. আলমগীর হোসেন সুরতহাল ও এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, নিহতের পরনে ছিল কালো হাফ প্যান্ট। তার বাম কাঁধে, পিঠের উপরের অংশে এবং বাম পাঁজরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম ও গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গলার নিচেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এসআই আলমগীরকে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মহেশপুর ৫৮ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ তাদেরকে জানিয়েছে। তবে ঘটনার দিন সীমান্তে কোনো গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়নি। কে বা কারা তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে তার পুলিশি তদন্তে বের হতে পারে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন