১লা মে থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস দেয়া হবে- জ্বালানিমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

দেশের কৃষির কথা চিন্তা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় ১লা মে থেকে গ্যাস দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রেসার কমে যাওয়ার ফলে এখন যেসব বাড়িঘরে বিদ্যুৎ-গ্যাসের লাইন আছে এবং যেসব ইন্ডাস্ট্রিতে লাইন আছে সেসব জায়গায় প্রেসার কমের জন্য সরবরাহ কমে গেছে। সেজন্য আমরা এখন শুধু উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য যতখানি পারছি গ্যাস সরবরাহ করছি।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশের গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোনোরকম অনুসন্ধান করে নাই। আমরা এই দুই মাসের সরকার আসার পরে বাপেক্সকে শক্তিশালী করে কাজ শুরু করেছি। যদি এই অনুসন্ধানে আমরা সফলকাম হই, আমি আশা করি যেসব গ্যাস কানেকশন দেয়া আছে সেসব জায়গায় আমরা কানেকশন দিতে পারবো। প্রেশারও দিতে পারবো।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার এই সেক্টরটাকে বিল পাস করে পুরো সেক্টরটাকে আমদানিনির্ভর করে দিয়েছে। বিশাল অঙ্কের বকেয়া রেখে গেছে। এর মাঝে আমরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোতে অনুসন্ধান করে, আমাদের দেশীয় গ্যাস কূপ যেগুলো পরিত্যক্ত হয়ে গেছে, তার মধ্যে যে লেফটওভার গ্যাস আছে, সেগুলোকে উত্তোলন করে আমাদের ডমেস্টিক চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করবো।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, জ্বালানিমন্ত্রীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়েই শুনলাম। উনি সঠিক বলেছেন- গত ১৫ বছরে আসলে কোনো রকম জ্বালানির অনুসন্ধান হয় নাই। বাপেক্সকে শক্তিশালী করাও হয় নাই। কিন্তু সুখবরও আছে। তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের ১১ কিলোমিটার এলাকায় নয়টি স্থানে ২৭টা কূপ আছে। এর মধ্যে ২২টা কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এইসব কূপ থেকে দৈনিক গড় ৩৩৩.৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়েছে, এটি আমার ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে।
তিনি আরও বলেন, এই মাসের ১৯ তারিখ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে নতুন গভীর কূপ অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে। যা থেকে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ৫.৬ কিলোমিটার গভীর কূপটি খননে প্রায় সাত মাস সময় লাগবে। এটি দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি বড় ভূমিকা রাখবে।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের আশুগঞ্জের যে সার কারখানা আছে, সেখানে গ্যাসের সংযোগের অভাবে কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেছে। মন্ত্রী যদি অন্তত সার কারখানায় গ্যাসটা দেন তাহলে আমি আমার এলাকার মানুষের কাছে একটু মুখ দেখাতে পারি।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে একটা সুখবর দিতে চাই, যদিও বিদ্যুতের উৎপাদন আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তারপরও দেশের কৃষির কথা চিন্তা করে আমরা এক তারিখ থেকে ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতে গ্যাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন