রংপুরে হাম মোকাবিলায় নেই পর্যাপ্ত শয্যা ও নমুনা পরীক্ষার ল্যাব

রংপুরে হাম মোকাবিলায় নেই পর্যাপ্ত শয্যা ও নমুনা পরীক্ষার ল্যাব

ফন্ট সাইজ:

রংপুরে হাম প্রতিরোধে টিকা কর্মসূচি কার্যক্রমে সচেতনতা ও প্রচারণা চললেও হাম রোগীর জন্য রংপুর মেডিকেল হাসপাতালসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমসংখ্যক শয্যা থাকায় বিপাকে রয়েছে চিকিৎসক ও রোগীরা। এ ছাড়া, রংপুর বিভাগে হামের রোগীর জন্য নেই নমুনা পরীক্ষার ল্যাব। ফলে সন্দেহভাজন রোগীর হাম শনাক্তে নমুনা পাঠাতে হচ্ছে ঢাকায়। এতে করে তাৎক্ষণিক রোগী সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাড়ছে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের উদ্বেগ। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতে করোনার মতো হামের নমুনা পরীক্ষার যন্ত্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা। রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময় আরও সাতজন রোগীকে হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. তানভীর চৌধুরী। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত রংপুর বিভাগে মোট ৭২৭ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে ৬৭৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে একজন রোগীর।

বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। যার মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩ জন রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। জানা যায়, রংপুর ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলা-উপজেলা হাসপাতালে রংপুর বিভাগের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

করোনাকালীন সময় রোগীদের চিকিৎসায় নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ওই সময় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর যন্ত্র স্থাপন করে নমুনা পরীক্ষা ও রংপুরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়। ফলে রংপুর বিভাগের করোনায় রোগীর মৃত্যু কম হয় ও সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেয়ে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে সারা দেশের মতো রংপুর বিভাগে হামের রোগী বেড়েছে। প্রতিদিনই জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, শরীরে লালচে ফুসকুড়িসহ হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন বয়সী শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলা-উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন রোগীদের দেহের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় ল্যাবে পাঠাতে হয়। সেই নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসতে সময় লেগে যাচ্ছে ৩ থেকে ৪দিন। কখনো সপ্তাহখানেকও লেগে যায়। এই সময় ক্ষেপণের ফলে হামের উপসর্গ থাকা রোগীরা আরও কাহিল হয়ে পড়েছে। অনেকক্ষেত্রে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটছে। নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত দেরি হওয়ায় হাসপাতালের অন্য রোগীদের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলাগুলোতে হামের রোগীর চিকিৎসায় আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় এই ঝুঁকি বেশি রয়েছে।

এ ছাড়া, প্রতিদিন জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতাল থেকে হামের নমুনা পাঠানোর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় নমুনা পরীক্ষার মহাজটের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রংপুরে ল্যাব নেই বলে চিকিৎসা থেমে নেই। সরকার যদি গুরুত্ব মনে করে বিভাগীয় নগরীতে ল্যাব স্থাপন করবে, তবে ভালো। কিন্তু ল্যাব না থাকায় এখন পর্যন্ত তেমন সমস্যায় আমরা পড়িনি।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গাউসুল আজম বলেন, সারা দেশে শুধুমাত্র ঢাকায় হামের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রংপুরের নমুনাগুলো বর্তমানে ঢাকার ল্যাব থেকে পরীক্ষা করানো হচ্ছে। তাই ফলাফল আসতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে যারা হাসপাতালে আসছেন তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাই রংপুর বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। সরকার উদ্যোগ নিয়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে হাম পরীক্ষায় ল্যাব স্থাপন করতে পারে। হামের সংক্রমণ রোধে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন