ভারতগামী এক জাহাজসহ ২টি জাহাজ আটক করেছে ইরান। আটককৃত জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নাজুক অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতির মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করছে ইরান রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। বুধবার সেখানে ভারতগামী একটি পণ্যবাহী জাহাজসহ মোট তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। এর মধ্যে দুটিকে নিজেদের উপকূলে নিয়ে গেছে তেহরান। শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা এবং বৃটিশ মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্সের( ইউকেএমটিও) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এপামিনোন্ডাস’ নামক জাহাজটি প্রথম হামলার শিকার হয়।
ওমানের উত্তর-পূর্ব উপসাগরে আইআরজিসি-র একটি গানবোট থেকে জাহাজটির ওপর বৃষ্টির মতো গুলি চালানো হয়। এতে জাহাজটির ব্রিজ (চালকের কক্ষ) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই জাহাজটি ভারতের দিকে আসছিল। এপামিনোন্ডাস ছাড়াও পানামার পতাকাবাহী ‘ইউফোরিয়া’ এবং ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ নামের আরও দুটি পন্যবাহী কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালায় ইরান। শারজাহ বন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার পথে থাকা ইউফোরিয়া জাহাজটি ইরানি উপকূলে হামলার শিকার হলে মাস্টার জাহাজ থামাতে বাধ্য হন। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘এপামিনোন্ডাস’ এবং ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ তাদের কব্জায় রয়েছে।
ইরানি নৌবাহিনীর দাবি, আটক করা জাহাজগুলো প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই চলাচল করছিল এবং নেভিগেশন সিস্টেমে কারচুপি করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছিল। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা আমাদের রেড লাইন। যারা নিয়ম মানবে না, তাদের পরিনতি এমনই হবে। এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের অনুরোধে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন। তবে ইরানের উপর নৌ-অবরোধ জারি রাখেন তিনি। এতে তেহরানও হরমুজ প্রণালি আটকে রাখে।
গত তিন দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের ২টি জাহাজ জব্দ করেছে, যার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই জোড়া জাহাজ আটক করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারতগামী জাহাজ আক্রান্ত হওয়ায় নয়া দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ পরেছে। ইরানের রাষ্ট্রদূতকে জরুরি তলব করেছে দিল্লি।
