কর কাঠামোর সংস্কার আহ্বান সিপিডি’র

ফন্ট সাইজ:

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। কর কাঠামোয় সংস্কার ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ৬ দফা সুপারিশ তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, শুধু রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ালেই হবে না, কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বৈষম্য হ্রাস নিশ্চিত করতে হবে।

সিপিডি এবং ক্রিশ্চিয়ান এইড যৌথভাবে ‘ট্যাক্স জাস্টিস ফর গ্র্যাজুয়েটিং বাংলাদেশ: দ্য কেস অব করপোরেট ইনকাম ট্যাক্স অ্যান্ড ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স’ শীর্ষক নীতিমালার সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রকাশ করেছে। তাতে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সিপিডি প্রস্তাব করেছে, বর্তমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা যেতে পারে। তবে এর সঙ্গে করের আওতা বাড়ানো এবং ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আট স্তরের ভ্যাট কাঠামো সরল করে তিন স্তরে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে সীমিত হারে কম ভ্যাট রাখা উচিত এবং ভ্যাট থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ নিম্নআয়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় করতে হবে। সিপিডি বলেছে, করপোরেট আয়করকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক ন্যূনতম করহার বিবেচনায় রেখে কর কাঠামো পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক খাতে কার্যকর করহার ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় তা ব্যবসাবান্ধব পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সারা দেশে ডিজিটাল ট্যাক্স রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। উপজেলা ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ছোট ব্যবসায়ীদের কর দাখিল সহজ করার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সব ব্যবসায় ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

কর প্রশাসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডাটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে কর ফাঁকি শনাক্ত ও আদায় বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সিপিডি। ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সমন্বিত প্ল্যাটফরম গড়ে তোলারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সিপিডি’র মতে, কর নীতিনির্ধারণ ও কর আদায় কার্যক্রমকে আলাদা করতে হবে। কর বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত ডিজিটাল প্ল্যাটফরম চালু এবং এনবিআরের নিয়োগ নীতিতে দক্ষ অডিট ও ডাটা বিশ্লেষক নিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন যৌথভাবে সিপিডি’র খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, তামিম আহমেদ, মালিহা সাবাহ আলী, সামি মোহাম্মদ ও মোহাম্মদ ইফতেখারুল ইসলাম।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন