সিলেটের দুই মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। লোভনীয় বেতেনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে ভারতে মানুষ পাচারের সঙ্গে জড়িত। মঙ্গলবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব’র একটি দল কোতোয়ালি থানাধীন পূর্ব-কাজীরবাজার এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গ্রেপ্তারকৃতদের গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করলে পুলিশ তাদেরকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- গোয়াইনঘাটের আমস্বপ্ন এলাকার ইসমাইল আলীর ছেলে শাকিল ও একই এলাকার ফয়সাল নামের আরেক যুবক। র্যাব জানায়, নড়াইল জেলার সদর থানাধীন শ্রীফলতলা এলাকার জোছনা খানম স্বামী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিবারে আর্থিক অসচ্ছলতা থাকায় তিনি অনেকদিন ধরে কাজের সন্ধানে ছিলেন। এ সময় মামলার প্রধান আসামি জুয়েল মিয়া তার পরিচিত হওয়ায় সে ভালো বেতনের চাকরি নিয়ে দিতে পারবে বলে তাকে জানায়। পরবর্তীতে জুয়েলের কথায় জোছনা বেগম এবং নাহিদা খাতুন নামের মহিলা মোবাইলে যোগাযোগ করে জানতে পারেন সে ইতিপূর্বে ২৫০-৩০০ জন ব্যক্তিকে ভারতে পাঠিয়ে ভালো বেতনের চাকরি দিয়েছে।
জোছনা বেগম তার মাধ্যমে ভারতে গেলে তাকে ভালো বেতনের চাকরি নিয়ে দেয়ার আশ্বাস প্রদান করে। তবে পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকায় জোছনা বেগমকে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় অথবা জাফলং এলাকায় ভালো কাজের ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। অতঃপর জুয়েল জোছনা বেগম ও নাহিদা খাতুন নামের মহিলাকে জাফলং এলাকায় ভালো কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে গত ১৬ই এপ্রিল সকালে জাফলং জিরো পয়েন্টে নিয়ে এসে তার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে যে, যদি তারা ভারতে না যায় তাহলে সে তাদেরকে ভারতের লোক বলে বাংলাদেশে চালান করে দিবে।
পরবর্তীতে বিকালে তাদেরকে জোরপূর্বক গোয়াইনঘাট থানাধীন পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরী সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে পারাপারের সময় এলাকার লোকজন তাদের কোনো সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে তারা জানান- তাদেরকে জোরপূর্বক ভারতে পাঠাতে চাচ্ছে। তাদের কথা শুনে উপস্থিত এলাকার লোকজন মানব পাচারচক্রের সদস্য জুয়েলকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় জোছনা খানম বাদী হয়ে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
