প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়া নারী জামায়াতে ইসলামীর কেউ নয় বলে দাবি করেছেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াত। একইসঙ্গে জামায়াতের সঙ্গে তার কোনো সাংগঠনিক, আদর্শিক এমনকি ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই বলেও জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
‘সুমাইয়া বন্যা’ নামে ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার বক্তব্যকে ন্যক্কারজনক, অশোভন ও শালীনতাবিবর্জিত আখ্যা দিয়ে এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার সকাল ৯টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভিন্নমত প্রকাশেরও একটি শালীন ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি রয়েছে। ব্যক্তি আক্রমণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ কোনো সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উক্ত ভিডিও তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে নেতৃবৃন্দ নিশ্চিত হয়েছে স্থানীয় জামায়াত নেতার মেয়ে হলেও ‘সুমাইয়া বন্যা’ নামের ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারী নারী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন।
স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রতিশোধ নিতে জানুয়ারি মাসে প্রচার হওয়া অশালীন ভাষ্যযুক্ত বক্তব্যটি নতুন করে সামনে এনেছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামীর নামে অশ্লীল স্লোগান দিয়েছে, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অশালীন ও নোংরা বক্তব্যের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায়ভার জামায়াতের ওপর চাপিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যমূলক এবং অনভিপ্রেত। যা রাজনৈতিক সহাবস্থান ও পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধকে ক্ষুণ্নসহ সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করে। যাচাই-বাছাই না করেই জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ভবিষ্যতে নোংরা ভাষা ব্যবহারে সতর্ক হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মঈনুদ্দীন মাহমুদ, সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হামিদ, সাঈদী হাসান বুলবুল, শহিদুল ইসলাম, ডা. ইমাম হাসান প্রমুখ।
