তেরো বছর পর দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আবারো সিরিজ জয়ের দারুণ সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সামনে। চট্টগ্রামের সাগরিকা স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডে জিতলেই ঘটবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি! প্রথম দুই ম্যাচ শেষে সিরিজে এখন সমতা। ফলে শেষ ম্যাচটি এখন অলিখিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে। আজ জিতলেই ব্ল্যাকক্যাপসদের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসে তৃতীয় বারের মতো সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে স্বাগতিকরা। স্পিন-বান্ধব ঢাকা পর্ব শেষে মাঠের লড়াই এখন ব্যাটিং-বান্ধব চট্টগ্রামে। গত ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর স্বাগতিক শিবির বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইট ট্রফি নিজেদের করে নেয়ার ব্যাপারে প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সিরিজ জেতার চাপ সব সময়ই থাকে।
চাপ যার কাছে যেমনই হোক না কেন, এটি শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট। এখানে সিরিজ জিততেই হবে।’ সিরিজ নির্ধারণী মহারণে তাই সবার চোখ এখন চট্টগ্রামের উইকেটের দিকে। পরিসংখ্যান বলছে, অতীতে কিউইদের বিপক্ষে মোট ১৩টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে মাত্র দু’টিতে (২০১০ ও ২০১৩) জয়ের দেখা পেয়েছে টাইগাররা। বাকি ১১টি সিরিজেই ব্ল্যাকক্যাপসরা জিতেছে। ঘরের মাঠে আগের দুই জয়ে স্বাগতিকরা প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। অন্যদিকে, মুখোমুখি ৪৮ বারের লড়াইয়েও সফরকারীদের আধিপত্য স্পষ্ট। ৩৫ জয়ে তারা এগিয়ে, যেখানে স্বাগতিকদের জয় মাত্র ১২টি। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। এমন কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম পর্ব স্বাগতিকদের জন্য বড় সুযোগ। এখানকার উইকেট বরাবরই ব্যাটিং-বান্ধব হয়ে থাকে। বল মাঝে মাঝে নিচু হতে পারে। তবে অসি কোচ উইকেট নিয়ে খুব বেশি ভাবতে নারাজ।
তিনি বলেন, ‘এটিকে ভালো উইকেটই মনে হচ্ছে। তবে এটি কেমন আচরণ করবে- তা এখনই বলা কঠিন। এখানকার স্কয়ার বেশ ভালো লাগছে। কিউরেটর বেশ আত্মবিশ্বাসী। সম্প্রতি এই উইকেটে খুব বেশি খেলা হয়নি। তাই স্কয়ারটি সুন্দরভাবে প্রস্তুত করার সুযোগ পেয়েছেন তারা।’ আগের দুই ম্যাচে স্পিনাররা দাপট দেখালেও আজ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে দল। চোট কাটিয়ে ফেরা মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল নেটে বোলিং করেছেন। তাকে বেশ সাবলীল মনে হয়েছে।
তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত টেইট। গত ম্যাচে মাত্র ৩২ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। রানার গতির কাছে পরাস্ত হয়েছেন সফরকারী ব্যাটাররা। নাহিদের টানা তিন ম্যাচ খেলা প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ‘সে দারুণ অ্যাথলেট। প্রচণ্ড গরমে নিজের কোটার পুরো ১০ ওভার ১৪০ কিলোমিটারের ওপর গতিতে বোলিং করতে পারাটা তার দুর্দান্ত ফিটনেসের প্রমাণ। তার ইয়র্কারগুলো আমাকে পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনিসের কথা মনে করিয়ে দেয়। ফাস্ট বোলার শুরুতে এসে উইকেট নিচ্ছে, এরপর দ্রুতগতির ইয়র্কারে টেলএন্ডারদের ছাঁটাই করছে, এটা আমি ভীষণ পছন্দ করি।’ প্রতিপক্ষ তাকে খেলতে দেখে ভয় পাবে বলেও মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, কিউই শিবিরে ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। নিক কেলি গত ম্যাচে ৮৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেললেও হেনরি নিকোলস, উইল ইয়াং ও অধিনায়ক টম ল্যাথামরা এখনো নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাই আজ তাদের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে সফরকারীরা।
টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পাওয়া পেসার সাকিব ও রিপন মণ্ডলের পারফরম্যান্সও দারুণ আশা জাগাচ্ছে। গত ম্যাচে দাপুটে জয় পেলেও স্বাগতিকদের ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থেকেই যায়। তবে চট্টগ্রামের ভেন্যু পরিসংখ্যানে আত্মবিশ্বাসী হতে পারে স্বাগতিক শিবির। এই ভেন্যুতে শেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই রান তাড়া করে জয় পেয়েছে তারা। পরিসংখ্যান বলছে, এই মাঠে রান তাড়া করা দলগুলোই বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। অন্যদিকে, সকালে বৃষ্টির ২৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে আবহাওয়া যাই হোক না কেন, ব্যাটারদের বড় দায়িত্ব নিতে হবে। গত ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত ফিফটি করে ফর্মে ফিরেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর তার এই রান পাওয়াটা দলের জন্য বড় স্বস্তির। টেইটও ব্যাটারদের ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি পেসারদের নিয়েও দারুণ আশাবাদী তিনি। সবমিলিয়ে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব। সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে যে দল ব্যাটিংয়ে ভালো করবে, জয় তাদের হাতেই ধরা দেবে।
