চট্টগ্রামের ঘরোয়া ক্রিকেট এখন গভীর সংকটে নিমজ্জিত। ২০২৪ সালে ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে বন্দরনগরীর ক্রিকেট লীগ পুরোপুরি বন্ধ। জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক শূন্যতায় মাঠের ক্রিকেট থমকে আছে। নতুন অ্যাডহক কমিটিতে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে খেলোয়াড়রা চরম হতাশার মধ্যে দিন পার করছেন।
স্থবির হয়ে পড়া এই ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন পরিচালক ও চট্টগ্রাম ক্রিকেট সংগঠক সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর। গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এই অচলাবস্থা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন প্রবীণ এই ক্রীড়া সংগঠক। বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে তো ওই যে কমিটি হয়েছে, ওখানে কমিটিতে কোনো স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ডের লোক নাই, সব ছাত্রদের দিয়েছে। এরা বুঝেও না।
খেলাধুলার উদ্যোগ তো নিবে কমিটির লোকজনই। এরাই তো ধরেন খেলাধুলার কোনো লোক ছিল না বা এরা কোনো খেলাধুলা বুঝতো না, যে কারণে খেলাধুলা বন্ধ। এখন আসলে কমিটি না থাকলে তো খেলাধুলা চালানো মুশকিল না? কাদের আন্ডারে খেলবে?’ তার মতে, যোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই চট্টগ্রামের ক্রিকেট আজ এই করুণ অবস্থা।
প্রশাসনিক গাফিলতি ও স্পন্সরদের অনাগ্রহে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের ঘরোয়া লীগ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে খেলোয়াড়রা নিয়মিত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অব্যবস্থাপনা ও ভেন্যু সংকট তো আছেই। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অবহেলাই এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে জেলার ক্রীড়াঙ্গনের কাঠামো ভেঙে পড়েছে। নিয়মিত লীগ না হওয়ায় তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা উঠে আসার পথও রুদ্ধ হয়ে গেছে। জেলার এই স্থবিরতা কেবল সাম্প্রতিক সময়ের নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার ফসল।
এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন আলমগীর। সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত যোগ্য কমিটি গঠনের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। এত সব হতাশার মাঝেও তামিম ইকবালকে নিয়ে আশার আলো দেখছেন তিনি। চট্টগ্রামের এই কৃতী সন্তান বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় নতুন স্বপ্নের জাল বুনছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তামিম ও নাফিস ইকবালের পর এই শহর থেকে জাতীয় দলে খেলার মতো আর কোনো বড় মানের ক্রিকেটার উঠে আসেনি।
তাই নিজের শহরের ক্রিকেটকে পুনরুজ্জীবিত করতে তামিম বিশেষ ভূমিকা রাখবেন বলে সবার বিশ্বাস। এই বিষয়ে দারুণ আশাবাদী আলমগীর। প্রাক্তন এই পরিচালক নতুন সভাপতির যোগ্যতা নিয়ে নিজের ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তামিম যদি নির্বাচিত হয়ে আসতে পারে আর তাকে আমি যতটুকু চিনি তার যে ইচ্ছা বা তার যে এগ্রেশন আছে, তাহলে ক্রিকেটের জন্য ভালো কিছু করতে পারবে। তার যে ইচ্ছাগুলো পরিকল্পনাগুলো আছে, সেটাকে যদি কাজে লাগাতে পারে এবং সাপোর্ট পায় আমার মনে হয় ক্রিকেটের জন্য ভালো হবে।’
নিজ শহর থেকেই এই কাঙ্ক্ষিত পুনর্জাগরণের সূচনা হবে বলে আশা করছেন বন্দরনগরীর সব ক্রীড়ামোদিরা। দেশের সামগ্রিক ক্রিকেট কাঠামোতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও নিজের শহরে তামিমের প্রভাব প্রবল। তার আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকরা শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। চট্টগ্রামকে আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তোলার বিশাল সুযোগ তার সামনে উপস্থিত। তামিমকে পূর্ণ সমর্থন জোগাতে প্রস্তুত স্থানীয় সংগঠকরা। তবে ব্যর্থ হলে কঠোর সমালোচনাও করা হবে। পুরো বিষয়টি নিয়ে আলমগীর বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদী সে কিছু করার পরিকল্পনা রাখছে। সে চিটাগং থেকেই কাজ শুরু করবে এটা আমি বিশ্বাস করি। আর এটা আমরা সাপোর্ট করতে চাই। এখানে যদি ফেল করে, আত্মীয় হোক বা প্রিয় হোক, আমরা অবশ্যই সমালোচনা করবো।’
