সুনামগঞ্জে হাওরে দ্রুত পাকা ধান কাটার পরামর্শ

নদীতে উজানের পানি বৃদ্ধি

সুনামগঞ্জে হাওরে দ্রুত পাকা ধান কাটার পরামর্শ

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় জেলার নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্ভাব্য অকাল বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় হাওরের জমিতে পাকা ধান দ্রুত কাটার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গত মঙ্গলবার পাউবোর পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়। এদিকে বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত বোরো ধান কর্তনের বিষয়ে বিশেষ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে সেগুলো জমিতে রেখে দেয়া এখন ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং হাওরের ভেতরে পানি রয়েছে। এর সঙ্গে উজানের ঢল নামলে পানি আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। তাই সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জানা যায়, চলতি বছর চৈত্র মাসের শুরু থেকেই জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। অতি বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উজানে ভারী বৃষ্টি হলে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল নেমে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। এতে যেকোনো সময় হাওর এলাকায় অকাল বন্যা দেখা দিতে পারে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে জেলার অনেক হাওরে পানি থাকায় কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। হাওরে বোরো ধান কাটার শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ২০ থেকে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত জেলার সব বালুমহাল ও তিনটি শুল্ক স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাতে শ্রমিকরা সহজে হাওরে ধান কাটতে পারেন। হাওরপাড়ের কৃষকরা জানান, আগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটার মৌসুমে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক সুনামগঞ্জে আসতেন। তবে সময়ের সঙ্গে বাইরের শ্রমিকের আগমন কমে গেছে। একইসঙ্গে ধান কাটার যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় স্থানীয় অনেক শ্রমিকও আর আগের মতো মাঠে কাজ করেন না।
জানা যায়, জেলার ১৩৭টি হাওরে চলতি মৌসুমে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরের গভীর অংশে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর এবং তুলনামূলক উঁচু এলাকায় ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন