হাওর জেলা নেত্রকোণা। দেশের সবচেয়ে দরিদ্র জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নেত্রকোণা। বছরের ৬ মাস পানির নিচে থাকে জেলার হাওরাঞ্চল। তাই বোরো মৌসুমটাই একমাত্র ফসল। হাওরাঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে উৎপাদনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষক স্বস্তিতে নেই। অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়, ধান কাটার বাড়তি খরচ, বাজার দরে অস্থিরতা এবং আগাম বৃষ্টির আশঙ্কায় কৃষকের স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে- এ বছর জেলার হাওরাঞ্চলে প্রায় ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় এক লাখ ৯৫ হাজার ৫৮ টন। এরই মধ্যে প্রায় ১১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। কৃষকদের মতে- উৎপাদন ভালো হলেও সেই ধান ঘরে তোলা এবং লাভে রূপান্তর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ধানের দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। জানা গেছে- ডিজেল সংকটের অজুহাতে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কর্তনের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। প্রতি কাঠায় এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বারহাট্টার সাহতা গ্রামের কৃষক শফিক বলেন- ধান কাটতে যদি এত টাকা লাগে, তাহলে লাভ তো থাকবেই না। বাজার পরিস্থিতিও কৃষকের পক্ষে নয়। স্থানীয় বাজারে কাঁচা ধান প্রতি মণ ৯০০ টাকা এবং শুকনা ধান এক হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সামনে সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমতে পারে। খালিয়াজুড়ি উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষক জানান- মৌসুমের শুরুতেই জমি প্রস্তুত, বীজ, সার ও কীটনাশকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হয়েছে। এর সঙ্গে সেচ ও শ্রম ব্যয়, সবশেষে ধান কাটার উচ্চ খরচ যোগ হওয়ায় আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ধানের দাম আরও কমে গেলে উৎপাদন খরচ মেলাতে গিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে কৃষকদের। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম দৈনিক মানবজমিনকে বলেন- প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা সম্ভব হবে।
উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম, দুশ্চিন্তায় কৃষক
নেত্রকোণা সংবাদদাতা
২২ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
