সিলেটে খাজাঞ্চি বাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনিয়মের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

সিলেট নগরীর দি খাজাঞ্চি বাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা। তারা অবিলম্বে ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সিলেট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- এডভোকেট কাজী সেবা। গত কয়েক বছর ধরে ট্রাস্টি বোর্ডের অপূর্ণতা, একাধিক সদস্যের মৃত্যুজনিত শূন্যতা, দায়িত্ব পালনে অক্ষম বয়স্ক সদস্য, প্রশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি এবং কিছু শিক্ষকের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে নাজুক হয়ে পড়ে। স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকায় প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে যায়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষানুরাগীদের বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রিন্সিপাল ইনচার্জ মোহাম্মদ হোসেন ও ভাইস-প্রিন্সিপাল তাহিয়া সিদ্দিকা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজকুমার সিংহকে প্রিন্সিপাল ইনচার্জ এবং মুজিবুর রহমানকে ভাইস-প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু মেয়াদ পূর্তির আগেই কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই ফোনে নির্দেশ দিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এডিসি (শিক্ষা) নুরের জামান চৌধুরী রাজকুমার সিংহকে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন। এতে তিনি পদত্যাগ করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে মুজিবুর রহমানকে প্রিন্সিপাল ইনচার্জ এবং আবেদা হক ও রুকনুদ্দিনকে ভাইস-প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে কিছুদিন প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চলছিল। কিন্তু পরে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক মো. সরোয়ার আলম হঠাৎ করে মুজিবুর রহমানকে অপসারণ করে প্রথমে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট টিপু সুলতান এবং পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হককে প্রিন্সিপাল ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি ও ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাবিহীন একজন সরকারি নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া অযৌক্তিক, বেআইনি এবং ট্রাস্টি ডিডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই ব্যক্তি সরকারি ও বেসরকারি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে পারেন না বলেও উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো, প্রিন্সিপাল ইনচার্জ পদ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রত্যাহার, দুইজন অভিভাবক প্রতিনিধিসহ পূর্ণাঙ্গ ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগকারী শিক্ষকদের পুনর্নিয়োগ বাতিল, শূন্য পদে যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদানে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব অভিভাবকদের অবহিতকরণ এবং স্কুল পরিচালনায় পৃথক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) নিয়োগ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। অন্যথায় শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফিকুর রহমান, কবি-সাহিত্যিক ড. এম এ মোশতাক, হাইকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়েজ আহমদ, এডভোকেট ইরশাদুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমদ, ব্যাংকার এমএ ওয়াদুদ, শিক্ষাবিদ মোস্তফা নূরুল হাসান চৌধুরী, অভিভাবক ফয়সাল আহমদ, এডভোকেট মো. ওয়াহিদুর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট নির্মল রঞ্জন, এডভোকেট আজমল হোসাইন, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম, অভিভাবক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম এডভোকেট, তারেক আল মঈন প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন