প্রোটিয়াদের কাছে হারের পর ‘ক্ষত’ মনে করছেন জিমি নিশাম

প্রোটিয়াদের কাছে হারের পর ‘ক্ষত’ মনে করছেন জিমি নিশাম

ফন্ট সাইজ:

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সহজ জয়ে সুপার এইটের দুয়ারে পৌঁছে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। শনিবার দিনের শেষ ম্যাচে প্রোটিয়াদের জয় ৭ উইকেটে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ জয়ের পর পয়েন্ট খোয়ালো কিউইরা। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এক স্মৃতি রোমন্থন করলেন নিউজিল্যান্ড তারকা জিমি নিশাম, যে ক্ষত হয়তো এখনও বয়ে বেড়ান দলের অনেক ক্রিকেটার-সমর্থকরা।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। রান তাড়ায় ১৭.১ ওভারেই ৭ উইকেট হাতে রেখে জয়ের দুয়ারে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এইডেন মার্করামের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজ জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা। ৪৪ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক। আগের ইনিংসে শেষ দিকে নেমে ১৫ বলে ২৩ রানের ক্যামিওতে অপরাজিত থাকেন নিউজিল্যান্ডের নিশাম। এই কিউই অলরাউন্ডারের একটি উক্তি এখনও বিখ্যাত হয়ে আছে। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে বিতর্কিত এক নিয়মে সুপার ওভারে হৃদয়ভাঙা হারের পর তিনি টুইট করেন, ‘বাচ্চারা, (পেশা হিসেবে) খেলাধুলাকে বেছে নিও না। বেকিং বা অন্য কিছু বেছে নাও। হৃষ্টপুষ্ট ও সত্যিকারের সুখী জীবন কাটিয়ে ৬০ বছরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করো।’ চলমান বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের আগের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দু’টি সুপার ওভার খেলে জয় তুলে নেয়। ম্যাচের পর ২০১৯-এ এমন ডাবল সুপার ওভারের না থাকার আক্ষেপই করলেন নিশাম।
লর্ডসের সেই ফাইনাল অনেকের মতেই সর্বকালের সেরা নাটকীয় ক্রিকেট ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৪১ রানের জবাবে শেষ ওভারে ইংল্যান্ড দূরে ছিল ১৫ রান। ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে ম্যাচ টাই করে ইংল্যান্ড। শেষ বলে ২ রান লাগলে, দ্বিতীয় রান নেয়ার সময় নিশামের থ্রোতে আউট হন মার্ক উড। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও বোল্টের ওভারে ১৫ রানই তোলে ইংলিশরা। মূল ম্যাচের মতো এবারও শেষ বলে প্রয়োজন হয় ২ রানের এবং এবার দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন মার্টিন গাপটিল। ফের টাই হওয়ায় এবং বেশি বাউন্ডারি মারায় শিরোপা তুলে দেয়া হয় ইংল্যান্ডের হাতে। এমন নিয়মে বিশ্বব্যাপী তুমুল সমালোচিত হওয়ার কারণে পরে নিয়মটি বাদ দেয় ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এখন ম্যাচের ফল না আসা পর্যন্ত সুপার ওভার চলবেই।
এদিনের ম্যাচের পর ২০১৯-এ ফিরে গিয়ে নিশাম বলেন, ‘এটি ভালো যে এখন প্রথম সুপার ওভার টাই হলে আরও সুপার ওভার খেলার সুযোগ রয়েছে। (২০১৯-এ থাকলে) খুবই দারুণ হতো...।’ তবে নিজেদের আক্ষেপ পাশে রাখলে, এমন সব মুহূর্তই বড় টুর্নামেন্টগুলোতে আরও প্রাণের সঞ্চার করে বলে বিশ্বাস নিশামের। ৩৫ বছর বয়সী কিউই তারকা আরও বলেন, ‘এসব নাটকীয় মুহূর্তের কারণেই এ টুর্নামেন্টগুলো এত ভালো। এই টুর্নামেন্টেও অনেক ম্যাচ এরকম হয়েছে। যেমন ইংল্যান্ড ও নেপালের লড়াই একদম শেষ পর্যন্ত গেছে এবং সেসবের প্রভাব সত্যিকার অর্থেই বাকি টুর্নামেন্টে ছড়িয়ে পড়েছে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন