আজকের পত্রিকা
‘উপচে পড়ছে সব ডিপো, তবু তেল নিয়ে হাহাকার’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ডিপোতে তেল রাখার জায়গা নেই। তেলবোঝাই জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালেও খালাস করা যাচ্ছে না। তেলভর্তি জাহাজ ভাসছে সাগরে। অন্যদিকে বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলোও জানাচ্ছে, তাদের ডিপোতেও তেল রাখার জায়গা নেই। তেল নেওয়ার জন্য তারা বিপিসির কাছে ধরনা দিচ্ছে। এই যখন অবস্থা, তখনো দেশজুড়ে পেট্রলপাম্পগুলোর সামনে দিনরাত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার চলছে দেশজুড়ে।
দেশের বেসরকারি শোধনাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম সুপার পেট্রোকেমিক্যাল। অপরিশোধিত তেল আমদানি করে পরিশোধনের পর অকটেন ও পেট্রলের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে তারা।
বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মার্চে দেশে জ্বালানি সংকট শুরু হলে সরকার সুপার পেট্রোকেমিক্যালের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ পায়নি। মার্চে কম দিয়ে এখন এপ্রিলে দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতিষ্ঠানটি বাড়তি তেল দিতে চাইছে।
এ ব্যাপারে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রণব কুমার সাহা বলেন, অকটেনের একটি জাহাজ ফেব্রুয়ারিতে আসার পর বিপিসি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তেল নেয়নি। ফলে মার্চে বাধ্য হয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তারা। এখন আবার এপ্রিলে এসে তাদের কাছ থেকে তেল নেওয়া বন্ধ করেছে বিপিসি। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কারণ, তাদের তিনটি ট্যাংকার উপচে পড়ছে। অথচ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বারবার বলা হলেও তারা তেল নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিতরণ কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান বলেন, অকটেন রাখার মতো জায়গা নেই। তাই বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে তেল নেওয়া হচ্ছে অল্প অল্প করে।
জানা গেছে, ১৬ এপ্রিল বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে বলা হয়, ৫ এপ্রিল বিপিসির সঙ্গে এক সভায় সুপার পেট্রোকেমিক্যালের পক্ষ থেকে এপ্রিলে ৩৭ হাজার টন অকটেন/পেট্রল ও ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ নেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে কোম্পানিটি। কিন্তু ৮ এপ্রিল থেকে উৎপাদন অনুযায়ী বা সরবরাহের সূচি অনুযায়ী বিপিসির কোম্পানিগুলো সরবরাহ নিতে অপারগতা জানায়। বর্তমানে পেট্রলবাহী তিনটি ট্যাংকার সরবরাহের জন্য ভাসমান অবস্থায় আছে। সীমিত মজুতব্যবস্থার কারণে পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না বলেও চিঠিতে দাবি করা হয়।
চিঠিতে উৎপাদন অনুযায়ী অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ গ্রহণের নিশ্চয়তা দিতে অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, উচ্চমূল্যে আমদানি করা কাঁচামাল থেকে অকটেন/পেট্রল উৎপাদন করে সময়মতো সরবরাহ করতে না পারলে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
জানতে চাইলে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সুপার পেট্রোকেমিক্যালের লোকজন আজকেও (সোমবার) দেখা করে গেছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে তেল না নেওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই। মার্চে বেসরকারি শোধনাগারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সরবরাহ না পেয়ে সরকারকে তখন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি অর্থ খরচ করে তেল কিনতে হয়েছে। এপ্রিলে মূল্যবৃদ্ধির পর এখন পত্রপত্রিকায় এই ধরনের নিউজ আসছে। কিন্তু তাঁরা তো আমাদের কিছু বলছেন না।’
তেল নিয়ে সাগরে ভাসছে জাহাজ
চট্টগ্রাম বন্দর ও বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ (লাইটারেজ) ভাসছে সাগরে। দুই দিন ধরে ভাসতে থাকা এই জাহাজের তেল রাখার জন্য বিপিসির ট্যাংকে জায়গা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিপিসি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে, ১৭-২৪ এপ্রিলের মধ্যে ১০ জাহাজের সব কটি জ্বালানি নিয়ে আসবে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার পর্যন্ত সাত জাহাজে প্রায় আড়াই লাখ টন জ্বালানি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে গেছে। ছয় জাহাজে ২ লাখ ১৩ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। এক জাহাজে ২৭ হাজার ৩৬৩ টন অকটেন রয়েছে। বাকি তিনটি জাহাজে ১ লাখ ১ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। এর মধ্যে একটি জাহাজ ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ২১ এপ্রিল, ৩৪ হাজার টন নিয়ে ২৪ এপ্রিল এবং ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ২৩ এপ্রিল তিনটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে।
বিপিসি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ১৭ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩৬৩ টন অকটেন নিয়ে এমটি নেভি সাইলো (মাদার ভেসেল) বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। এর আগে ১৬ এপ্রিল এই অকটেন খালাস প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে শুল্কায়ন সম্পন্ন হয়। গত রোববার মাদার ভেসেল থেকে এমটি সেন্ট্রাল স্টারে (লাইটারেজ) অকটেন ভরা হয়। এর পর থেকেই খালাসের অপেক্ষায় সাগরে ভাসছে অকটেনবাহী লাইটারেজটি।
এ বিষয়ে বিপিসি জিএম (বাণিজ্য ও অপারেশন) জাহিদ হোসাইন জানান, জাহাজে অকটন রয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই খালাস সম্পন্ন হবে। এর বাইরে তিনি আর কোনো কথা বলতে চাননি।
প্রথম আলো
‘নোংরা পরিবেশে চলছে হামের চিকিৎসা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের পরিবেশ নোংরা। সেই পরিবেশেই হামের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আশপাশের অবস্থা ও জনবলসংকটের কারণে হাসপাতাল পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে শুধু হামের চিকিৎসা হয়, তা নয়। দেশে যত ধরনের সংক্রামক ব্যাধি আছে, তার প্রায় সব ধরনের চিকিৎসা হয় সরকারি এই হাসপাতালে। হাম ছাড়া অন্য রোগের তালিকায় আছে এইচআইভি/এইডস, ডায়রিয়া, বসন্ত, জলাতঙ্ক, ধনুষ্টংকার, কালাজ্বর, ডেঙ্গু, টাইফয়েড, ডিফথেরিয়া, ম্যালেরিয়া, অ্যানথ্রাক্স। নিউমোনিয়া ও ক্ষতের চিকিৎসাও হয় হাসপাতালটিতে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন মৌসুমে ভাইরাসজনিত যেসব রোগ দেখা দেয়, তার চিকিৎসা এ হাসপাতালেই হয়।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটির অবস্থান রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তি এলাকায়। বলা যায়, হাসপাতালটি বস্তির মধ্যে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল বললে মানুষ খুব একটা চেনে না। হাসপাতালটি অনেকের কাছেই পরিচিত কুকুরে কামড়ানোর চিকিৎসার হাসপাতাল নামে। ১২ মাস এখানে কুকুরে কামড়ানো রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিদিন হাসপাতালটিতে জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেওয়া হয়। তবে হামের টিকা দেওয়া হয় না, এখনো দেওয়া হচ্ছে না।
তিনটি পৃথক রাস্তা ধরে হাসপাতালে যাওয়া যায়। তবে প্রতিটি রাস্তার দুই পাশে বস্তি। বস্তির সঙ্গে আছে ছোট ছোট নানা ধরনের দোকান। এ বস্তি গড়ে উঠেছে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জমিতে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র, নার্সিং ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)—সবই জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জমিতে গড়ে উঠেছে। বিগত সরকারগুলো বস্তি তুলে দিয়ে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে, কিন্তু তা সফল হয়নি।
হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালটিতে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। গত রোববার দুপুরে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা যায়, পা ফেলার জায়গা নেই। লিফটের সামনে, বারান্দায়, ওয়ার্ড—সবখানে হামে আক্রান্ত শিশু। প্রতিটি শিশুর সঙ্গে মাসহ বাবা বা অন্য কোনো অভিভাবক আছেন। দুটি বাথরুমে যাওয়ার যে বারান্দা, সেখানেও দুটি করে মোট চারটি শয্যা। বর্জ্য ফেলার বা রাখার যে পাত্র বা বিন, তা শয্যার কাছেই। কোথাও কোথাও বৈদ্যুতিক পাখা নেই। একজন অভিভাবক জানান, একটি টেবিল ফ্যান তিনি কিনে ব্যবহার করছেন।
দেখা গেল, ওয়ার্ডের মধ্যে যেখানে নার্সরা বসেন, যেখানে ওষুধ ও স্যালাইন থাকে, তার পাশেই বর্জ্য ফেলার কালো, হলুদ ও সবুজ রঙের তিনটি বিন। সাধারণত ওষুধ ও বিন এ রকম পাশাপাশি দেখা যায় না।
বিভিন্ন তলা, বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে ময়লা–আবর্জনা চোখে পড়ল। দেখে বোঝা যায়, কিছু ময়লা অনেক পুরোনো। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। তিনজন অভিভাবক বললেন, দিনে মাত্র একবার ঝাড়ু দেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংক্রমণ প্রতিরোধের বাড়তি ব্যবস্থা হাসপাতালে নেই।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এফ এ আসমা খান প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন মাত্র ১৯ জন। এই জনবল দিয়ে হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা সম্ভব না।
এফ এ আসমা খান এই হাসপাতালে এসেছেন এক মাসেরও কম সময়। তিনি বললেন, ‘আমি এসে পরিবেশ উন্নত করা চেষ্টা করছি। ঠিক মতো পারছি না। আমার নিজের কাছেই খারাপ লাগে।’
হাসপাতালের ভেতর দিয়ে বস্তির মানুষের যাতায়াতের রাস্তা। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা এই রাস্তায় মানুষ যাতায়াত করেন। হাসপাতালে চত্বরে বস্তির মানুষ আড্ডা দেন। সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট স্থানে গাঁজার আসর বসে। হাসপাতাল প্রশাসনের কোনো কর্তৃত্ব থাকে না। তত্ত্বাবধায়ক এফ এ আসমা খান বলেন, ‘সকালে ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে, বিকেলে আবার একই অবস্থা। মানুষজনকে বোঝানো যাচ্ছে না।’
‘এই পরিবেশে কোনো চিকিৎসা হয় না’
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি ১০০ শয্যার। গতকাল সোমবার রোগী ভর্তি ছিলেন ১০৩ জন। হামের রোগীর জন্য শয্যা বরাদ্দ ১৫টি। গতকাল হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি ছিল ৬৩টি। হামের রোগী ছাড়াও গতকাল হাসপাতালটিতে এইডসের ১৭ জন, ডায়রিয়ার ১ জন, বসন্তের ৮ জন, জলাতঙ্কের ১ জন, ধনুষ্টংকারের ৮ জন, কালাজ্বরের ২ জন, ম্যালেরিয়ার ১ জন ও অ্যানথ্রাক্সের ১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এ ছাড়া অস্বাভাবিক ক্ষত নিয়ে ভর্তি ছিলেন ১ জন।
হাসপাতালে যত শিশু ভর্তি দেখা গেছে, তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে একাধিক অভিভাবক হাসপাতালে থাকেন। তাঁরা হাসপাতালেই খাওয়াদাওয়া করেন। রাতে হাসপাতালেই ঘুমান। হাসপাতালের কর্মীরা অভিযোগ করেন, অভিভাবকদের অনেকেই হাসপাতাল পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে আন্তরিক না। কিছু অভিভাবক বিন ব্যবহার না করে যেখানে–সেখানে বা শয্যার পাশেই আবর্জনা রাখেন।
এ বছর হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৯৬ জন রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৮০৭ জন। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ২৫৯ জনের। এই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩২ জন মারা গেছে।
গতকাল হাসপাতালে গিয়ে আগের দিনের চেয়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা গেল। তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘আমি চেষ্টা করছি হাসপাতাল পরিষ্কার রাখার। তবে সবার সহযোগিতা দরকার।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেকোনো হাসপাতাল থেকে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। মানুষ এক রোগের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে অন্য রোগ নিয়ে ফিরতে পারে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সেই ঝুঁকি আরও অনেক বেশি। এই ঝুঁকি কমানোর দায়িত্ব সরকারের। এর জন্য নানা ব্যবস্থা আছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ঝুঁকিতে গুম কমিশনের স্পর্শকাতর তথ্যপ্রমাণ’। খবরে বলা হয়, সদ্যবিলুপ্ত গুম কমিশনের অতি গোপনীয় নথিপত্র এবং বেশকিছু স্পর্শকাতর তথ্যপ্রমাণ একধরনের সংরক্ষণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আইনগতভাবে কোন দপ্তরে এসব গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা হবে, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনাও নেই। এ কারণে এসব আলামত অনেকটা অভিভাবকহীনভাবে মানবাধিকার কমিশনে পড়ে আছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি কোনো কারণে এসব তথ্যপ্রমাণ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে খোয়া যায়, তাহলে গুম সংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে সত্যিকারার্থে যারা গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডকুমেন্ট নতুন করে সংগ্রহ করা কঠিন হবে।
গুম কমিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন-এমন দায়িত্বশীল সূত্র পরিচয় গোপন রাখার শর্তে যুগান্তরকে বলে, ‘গুম সংক্রান্ত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারকাজ ত্বরান্বিত করতে তাদের দীর্ঘ অনুসন্ধান ও জেরায় প্রাপ্ত অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। কিন্তু তারা যখন এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন অনেকটা হঠাৎ করে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে তাদের ফুল কমিশনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এসব গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের কারণে প্রভাবশালী অনেকে ফেঁসে যেতে পারেন, সেহেতু কার্টনভর্তি এসব ডকুমেন্ট যে কোনো সময় গায়েব হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তো থাকতেই পারে।’
গুম কমিশনের নথিপত্র সংরক্ষণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, ‘বিলুপ্ত গুম কমিশনের নথিপত্র এবং গোপনীয় দলিল-দস্তাবেজ মানবাধিকার কমিশনের সচিবের জিম্মায় থাকার কথা। সুনির্দিষ্ট গন্তব্য চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নথিপত্র তার হেফাজতেই থাকবে-এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে এগুলো কোথায়-কীভাবে আছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারছেন না।’
যা আছে ২৪ কার্টনে : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রভাবশালী গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ছাড়াও সামরিক, বেসামরিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক কর্মকর্তাকে গুম কমিশনে তলব করা হয়। তাদের কেউ কেউ লিখিত বক্তব্য পাঠান, কেউ আবার সশরীরে হাজির হন। এ সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক একাধিক মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং র্যাব ও পুলিশের সাবেক উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদের অডিও-ভিডিও রেকর্ড করা হয়। এছাড়া গুম কমিশনের বিশেষ অনুসন্ধান টিম র্যাব এবং ডিজিএফআই পরিচালিত একাধিক গোপন বন্দিশালা থেকেও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার করে।
সূত্র জানায়, হাসিনা সরকারের বিশেষ আস্থাভাজন কর্মকর্তা এবং ডিজিএফআই-এর সাবেক প্রভাবশালী মহাপরিচালক (ডিজি) লে. জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন কমিশনে হাজির হন। এ সময় তিনি গুমের একাধিক ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করে দেন। এছাড়া র্যাব ও সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য গুম ও খুনের একাধিক ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে সাক্ষ্য দেন। এর বাইরে গুমের শিকার একাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগও রেকর্ড করা হয়।
কালের কণ্ঠ
‘শিক্ষাগুরুর বিভীষিকাকাল’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ‘ও ভাই...আমরা শিক্ষক মানুষ, আমরা রাজনীতি করি না। আমরা ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিলাম। ভাই, আমাদের মাইরেন না ভাই। আমাদের ওপর হামলা কইরেন না ভাই! ও ভাই...আমাদের বাঁচান, আমাদের বাঁচান...।’
এভাবেই বদ্ধ ঘরের ভেতরে প্রাণভিক্ষা চেয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছিলেন কয়েকজন মানুষ। কেউ এ-ঘর থেকে ও-ঘরে ছোটাছুটি করে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন, কেউ মোবাইল ফোনে কাউকে ফোন করার চেষ্টায়। বাইরে থেকে দরজায় সজোরে একের পর এক আঘাত। ধারালো অস্ত্রের কোপে ফেটে যাচ্ছে দরজার কাঠ...।
আমাদের অনুসন্ধানে পাওয়া ৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে এই ভয়াবহ চিত্র। ঘটনাটি ২০২৪ সালের ১৮ আগস্টের। সেদিন বরিশালের গৌরনদীতে ‘মাহিলাড়া এএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর স্টাফ কোয়ার্টারে প্রধান শিক্ষকের বাসায় এ হামলা করা হয়। প্রধান শিক্ষক প্রণয় কান্তি অধিকারীকে সপরিবারে ঘরের ভেতরে আটকে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে শতাধিক ব্যক্তি।
প্রণয় কান্তির মেয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদৃতা অধিকারী ফেসবুক লাইভে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখানো শুরু করলে এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী গিয়ে উদ্ধার করে আক্রান্ত পরিবারটিকে।
সে যাত্রায় প্রাণে বাঁচলেও পরে জোর করে পদত্যাগ করানো হয় প্রধান শিক্ষক প্রণয় অধিকারীকে। এরপর তিনি বরণ করেন নির্বাসিত জীবন। শুরু হয় বঞ্চনা আর মানবেতর জীবনযাপন।
সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি মনে করতেও ভয় পান এই শিক্ষক। গত ১৯ এপ্রিল দুপুরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে অজ্ঞাত স্থান থেকে প্রণয় অধিকারী বলেন, ‘আমার প্রাণের ক্যাম্পাসের ভেতরে আমাকে সপরিবারে এভাবে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে, এ কথা যতবার ভাবি, আমার গা শিউরে ওঠে।’
আর্থিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ শুনিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করে দেন প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক, এমন অভিযোগ প্রণয় কান্তির। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি জীবনে কোনো দিন রাজনীতি করিনি। এখন মনে হয়, আমার দোষ একটাই—আমি কড়া প্রশাসক, কখনো কোনো অনিয়ম প্রশ্রয় দিইনি। অথচ আমাকে অপরাধী বানিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করে এমন জঘন্য কাজে নামিয়ে দেওয়া হয়।’
এই শিক্ষক জানান, অনেক দৌড়ঝাঁপের পর গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর বেতন-ভাতা চালু হয়েছে। কিন্তু প্রাণের ভয়ে এখনো স্কুলে ফিরতে পারেননি।
ওই বিভীষিকাময় দিনের ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাড়িটির সব দরজা প্রায় ভেঙে ফেলা হয়েছিল। শেষ পর্যায়ে ফেসবুকে লাইভ শুরু হলে পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। না হলে কী যে হতো, তা ভাবতেও ভয় লাগে।’
একই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক শহিদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একজন শিক্ষক সমাজ গঠনের কারিগর, অথচ তিনি আজ নিজেই অন্ধকারে। তাঁর পরিবার আজও বহন করে চলেছে এক ভয়াবহ দিনের দাগ, যা কোনো দিনই মুছে যাওয়ার না।’
প্রণয় কান্তি অধিকারীর মতোই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন দেশের বেসরকারি বিদ্যালয়ের অন্তত তিন হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। আরো কয়েকজন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও মব-সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশজুড়ে শুরু হয় ‘মবোৎসব’। এর থেকে রেহাই পাননি মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষাগুরুরাও। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, স্বৈরাচারের দোসর তকমা দিয়ে নিরপরাধ শিক্ষকদের অপমান-অপদস্থ’, শারীরিক-মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়েছে। জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে, তারপর লঞ্ছিত করে তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বেতন-ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবারের ওপরও চালানো হয়েছে নিপীড়ন। ২০২৪ সালের আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর—এই তিন মাসেই ঘটে গেছে মব-সন্ত্রাসের এসব নজিরবিহীন ঘটনা। এর পরও অবশ্য আরো কয়েকটি মবের ঘটনা ঘটেছে।
ঠিক কতজন শিক্ষক মবের শিকার হয়েছেন—সুনির্দিষ্টভাবে সে সংখ্যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর বা জেলা শিক্ষা অফিসের কাছে—কোথাও পাওয়া যায়নি। মবের শিকার হওয়া শিক্ষকদের সংগঠন ‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর তথ্য মতে, ৫ আগস্টের পর মব-সন্ত্রাসের শিক্ষার হয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি কৃষির সব খাতেই ব্যয় বাড়াবে’। খবরে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে দেশের কৃষিখাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। ব্যয় বেড়ে যাবে সেচ খরচ, ট্রাক্টর ভাড়া এবং পণ্য পরিবহনসহ প্রায় সব খাতেই। এতে সরাসরি উত্পাদন খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের খাদ্য ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে সামগ্রিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিপাকে পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষ।
গত শনিবার প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। যা গতকাল সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। তথ্য বলছে, এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষিতে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি দ্বিমুখী চাপ তৈরি করতে পারে। উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের লাভ কমে যাবে, অন্যদিকে, বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। বিশেষ করে চালের বাজারে এর প্রভাব পড়লে তা নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে।
এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, বাংলাদেশের কৃষি এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে ডিজেলনির্ভর। ফলে জ্বালানির দামের যে কোনো পরিবর্তন সরাসরি উত্পাদন ব্যয়ে প্রতিফলিত হয়। তাদের মতে, উত্পাদন অব্যাহত রাখতে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য প্রণোদনা বা ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ, অর্থাত্ ১০ লাখ ৪৪ হাজার টন ব্যবহূত হয় কৃষিকাজে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সেচ কার্যক্রমই এখনো ডিজেলনির্ভর। ফলে জ্বালানির এ মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি সেচ ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু সেচ নয়, জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, ফসল কাটা, মাড়াই এবং বাজারে পরিবহন—পুরো কৃষি উত্পাদন চক্রই কমবেশি ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৯ লাখ কৃষিযন্ত্র ব্যবহূত হচ্ছে, যার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেলচালিত। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ার অর্থ হচ্ছে কৃষির প্রতিটি ধাপে খরচের চাপ বৃদ্ধি।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে বিদ্যুত্মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্য জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তেলের দাম যেটুকু বাড়ানো হয়েছে, তাতে মূল্যস্ফীতি বাড়তেও পারে, আবার নাও বাড়তে পারে।
বর্তমানে মাঠে থাকা বোরো ধান দেশের মোট চাল উত্পাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দেয়। এ মৌসুম সম্পূর্ণভাবে সেচনির্ভর হওয়ায় ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি উত্পাদন খরচে প্রতিফলিত হচ্ছে। যদিও মৌসুমের শেষ পর্যায়ে সেচের প্রয়োজন তুলনামূলক কম, তবে ফসল কাটা, মাড়াই এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ার বাস্তবতা ইতিমধ্যে সামনে আসতে শুরু করেছে।
নয়া দিগন্ত
‘সঙ্ঘাতের চূড়ান্ত সীমায় ওয়াশিংটন-তেহরান’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে আচ্ছন্ন। এক দিকে শান্তি আলোচনার শেষ চেষ্টা হিসেবে মার্কিন নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন, অন্য দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক আলটিমেটাম এবং সমুদ্রে ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনায় পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। আগামী কয়েক ঘণ্টা নির্ধারণ করবে বিশ্ব কি আরো একটি ভয়াবহ যুদ্ধের সাক্ষী হবে, নাকি কোনো নাটকীয় চুক্তিতে পৌঁছাবে।
আগামী বুধবার বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। পাকিস্তান ও মিসরের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এখন খাদের কিনারায়। যদি আজ রাতের মধ্যে কোনো নাটকীয় সমঝোতা না হয়, তবে ট্রাম্পের দেয়া সময়সীমা পার হওয়ার সাথে সাথে মধ্যপ্রাচ্য এক সর্বাত্মক ও বিধ্বংসী মহাযুদ্ধের কবলে পড়বে। বিশ্বনেতারা এখন নিঃশ্বাস বন্ধ করে ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছেন।
পাকিস্তানে জেডি ভ্যান্স : দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি থাকলেও তা এখন ভেস্তে যাওয়ার পথে। ইসলামাবাদ এখন বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘ প্রায় ৪০ দিনের সঙ্ঘাতের পর পাকিস্তান ও মিসরের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়।
মার্কিন প্রতিনিধিদল : ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মতো প্রভাবশালী প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। রাওয়ালপিন্ডির নুর খান বিমানঘাঁটিতে গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ছয়টি মার্কিন সামরিক বিমান উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জাম নিয়ে অবতরণ করেছে।
ইরানের বর্জন : ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাফ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ‘দ্বিমুখী আচরণ’ এবং সমুদ্রসীমায় জলদস্যুতার পর এই মুহূর্তে আলোচনার কোনো পরিবেশ নেই। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠক বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
আলোচনার মূল লক্ষ্য- যুদ্ধবিরতি টেকসই করা এবং ইরানকে আবারো পারমাণবিক চুক্তির কাঠামোয় ফিরিয়ে আনা। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতি এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এ দিকে হরমুজ প্রণালীতে ইরান ইতোমধ্যে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি : আলোচনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাশের গ্যারিসন শহর রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘পাকিস্তান ও আফগানিস্তান এখন আর দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মানচিত্রের সীমারেখা অপরিবর্তিত থাকলেও বদলে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতা। দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (এমইএনএ) অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক।
বৈশ্বিক এ ঋণদাতার নতুন এ কাঠামোগত বিন্যাসে জন্ম নিয়েছে ‘বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য’ বা ‘এমইএনএএপি’ নামের নতুন এক অর্থনৈতিক বলয়। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার উৎস, উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমবাজারের ওপর অতিনির্ভরতা এবং জ্বালানি আমদানির ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনা করেই এ কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিশ্বব্যাংক চলতি মাসেই ঘোষণা দিয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এ আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাস কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, যেখানে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কমে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ আরো জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এ অঞ্চল থেকে ভূ-অর্থনৈতিকভাবে সরে যাওয়ায় আঞ্চলিক ভারসাম্য ভারতের দিকে আরো ঝুঁকতে পারে।
এতে এ অঞ্চলের সমন্বিত অর্থনৈতিক উদ্যোগ আরো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তার বণ্টনেও পুনর্বিন্যাস হতে পারে, যেখানে বাকি দেশগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়াকে একটি কম সংহত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করতে পারে, যেখানে দেশভিত্তিক কৌশলই বেশি প্রাধান্য পাবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্বব্যাংকের এ আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাসের পেছনে ভৌগোলিক যুক্তির চেয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্কই প্রাধান্য পেয়েছে। ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত। এর সীমানা ভারতের পাশাপাশি আফগানিস্তান ও ইরানের সঙ্গে সংযুক্ত, আর দক্ষিণে রয়েছে আরব সাগর। কৌশলগত ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণে ইসলামাবাদকে প্রায়ই ‘বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য’ বা এমইএনএএপি কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা হয়। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হলেও পাকিস্তানকে এখন ক্রমবর্ধমানভাবে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো উৎপাদনভিত্তিক বা রফতানিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে না পারায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বৈদেশিক মুদ্রার জন্য বিকল্প পথ খুঁজে এসেছে। সে বিকল্প পথ হয়ে উঠেছে উপসাগরীয় অঞ্চল। বিশেষ করে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত। এ দুই দেশের শ্রমবাজারে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি কর্মরত। যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স পাকিস্তানের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে তেল-গ্যাস আমদানির জন্যও পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল, ফলে জ্বালানি বাজারের ওঠানামা সরাসরি দেশটির অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। এ নির্ভরতা পাকিস্তানকে ধীরে ধীরে এমন এক অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে ঠেলে দিয়েছে, যাকে দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে অনেক বেশি সাযুজ্যপূর্ণ বলেই মনে করেছে বিশ্বব্যাংক।
এমনকি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে গিয়ে পাকিস্তান বারবার গালফ দেশগুলোর কাছ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। যা কখনো ডিপোজিট, কখনো ঋণ, কখনো বা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে এসেছে। এ সহায়তা সংকটকালে পাকিস্তানের রিজার্ভ টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে পাকিস্তানের অর্থনীতির ‘কেন্দ্রীয় ভার’ ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়া থেকে সরে গিয়ে গালফ অঞ্চলে স্থির হয়েছে।
দেশ রূপান্তর
‘পরাধীনতার ৭০ অনুচ্ছেদ’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদ। জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের (এমপি) ‘পরাধীন’ করে রাখার এ অনুচ্ছেদ নিয়ে আপত্তি, সমালোচনাও হয়েছে অনেক। বিশ্লেষকদের মতে, সংসদকে ‘একপেশে’, সরকারকে ‘একনায়ক’ এবং সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতামতকে দমিয়ে রাখার ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন বা সংস্কারে অনাগ্রহের বড় কারণ ‘রাজনৈতিক’। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। ইতিমধ্যে সংসদে নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। শিগগিরই হওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় নেই বলে আভাস পাওয়া গেছে।
আড়াই বছরের বেশি সময় আগে বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফায় আস্থা ভোট, অর্থ বিল, সংবিধান সংশোধনী বিল এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এমন সব বিষয় ব্যতীত অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে ৭০ অনুচ্ছেদ বিবেচনা করা হবে উল্লেখ করা হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার হিসেবে ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কারের কথাও বলা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদের ২৫ নম্বর ক্রমিকে এ অনুচ্ছেদের বিষয়ে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের সদস্যরা কেবল অর্থ বিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতি অনুগত থাকবেন। অন্য যেকোনো বিষয়ে তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
গত বছর জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্বের যে আলোচনা হয়, তাতে শর্তসাপেক্ষে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন বিষয়ে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। অর্থ বিল, আস্থা ভোট ও সংবিধান সংশোধন এমন তিন বিষয় ছাড়া সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে দলের বিরুদ্ধেও কথা বলতে পারবেন বলে বিএনপিও তখন একমত পোষণ করে।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপির পক্ষে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মুঠোফোন এবং হোয়াটসআপ নম্বরে যোগাযোগ করলেও তিনি সাড়া দেননি। অবশ্য অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘তেল নিয়ে নৈরাজ্য সবকিছুতে’। খবরে বলা হয়, জ্বালানি তেল নিয়ে দেশজুড়ে চলছে চরম নৈরাজ্য। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে তেল পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া সংকটে ভুগছে বাংলাদেশও। তেলসংকটের ব্যাপক প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন জীবনে। এরই মধ্যে সরকার বিশাল ভর্তুকির বোঝা কমাতে এবং তেলের অবৈধ মজুতদারি ঠেকাতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। এতে এখন পর্যন্ত ভোগান্তি খুব একটা না কমলেও গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘোষণা ছাড়াই ঢাকার কিছু রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। জ্বালানিসংকটের প্রভাবে এরই মধ্যে গোটা দেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করেছে।
গতকাল মধ্যরাতে সারা দেশে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের লোডশেডিং হয়। গ্রামাঞ্চলে এখন বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। তেলের সংকটে জেনারেটর চালাতে না পেরে দেশের কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে কৃষক সেচের জন্য জেনারেটরে প্রয়োজনীয় তেল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। হাসপাতালে জেনারেটর বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ বাড়ছে রোগীদের।
বেড়েছে পরিবহনভাড়া: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এক দিন পরই পরিবহন মালিকরা যাত্রীভাড়া বৃদ্ধির তোড়জোড় শুরু করেন। ঘোষণা না দিয়েই গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন রুটে লোকাল বাসের যাত্রীদের থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়। এতে বাসের হেলপার ও যাত্রীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। প্রায় সব গন্তব্যেই যাত্রীপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা করে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়। গতকাল আগারগাঁও থেকে আলিফ পরিবহনে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবিদ হোসেন ডেমরা যাচ্ছিলেন। তিনি জানান, এ রুটে ভাড়া অন্য সময় ৫০ টাকা নেওয়া হলেও গতকাল ৬০ টাকা নেওয়া হয়।
লোডশেডিং পৌঁছেছে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটে : জ্বালানিসংকটের বিরূপ প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা একদিকে বাড়ছে অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জ্বালানি গ্যাস ও তেলের সংকটে পরিস্থিতি দিনদিন খারাপ হচ্ছে। শহওে লোডশেডিং কিছুটা কম হলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ। গত কয়েক দিনে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে দিন ও রাতের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্যমতে গতকাল মধ্যরাত ১টার দিকে ১ হাজার ৯১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, জ্বালানিসংকটের পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন কিছুটা কম হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এর মোট স্থাপিত সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানিসংকটের কারণে সক্ষমতার অর্ধেক বিদ্যুৎ এখন উৎপাদিত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে গড়ে ১১ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
জেনারেটর বন্ধে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পোৎপাদন, সেচকাজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা : জ্বালানিসংকটের কারণে কারখানা, সেচকাজ ও হাসপাতালের জেনারেটরগুলো বন্ধ আছে। এতে পোশাকসহ অন্য কারখানায় উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অনেক কারখানার মালিকরা জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তেল ও পণ্য পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় তেল যথাসময়ে পাচ্ছেন না। এতে উৎপাদনের পাশাপাশি সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে সরকারের কাছে আবেদন কওে পোশাক কারখানার মালিকরা সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে পেট্রোলপাম্প থেকে তেল সংগ্রহ শুরু করেছেন। আবার ডিজেলসংকটের কারণে সেচ মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষক জেনারেটর দিয়ে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। আগে পাম্প থেকে ট্যাংকিতে করে তেল দেওয়া হলেও এখন সেটি না দেওয়ায় কৃষক ভোগান্তিতে পড়েছেন। আবার দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও তা চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নেই। জেনারেটর না চলায় অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি ও জরুরি বিভাগের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মোমবাতির আলোয় কোনোমতে জরুরি সেবা চললেও গরমে রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
সহযোগীদের খবর
উপচে পড়ছে সব ডিপো, তবু তেল নিয়ে হাহাকার
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
১ মাস আগে
২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার), ২০২৬, ৯ঃ০০ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

Atiqur Rahman Atiq
১ মাস আগেকথা যদি সত্য হয় তাহলে সরকার কি ইচ্ছে করে এই অবস্থা তৈরি করেছে? কেন দেশে ডিপো থেকে তেল নিবেনা? উদ্দেশ্য কি জনগণকে কষ্ট দেওয়া?