সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দশ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে খরুচে ছিলেন নাহিদ রানা। তবে সেই হতাশা ভুলতে সময় নিলেন মাত্র দুইদিন। গতকাল কিউই ব্যাটারদের আক্ষরিক অর্থেই কাঁদিয়ে ছেড়েছেন এই ডানহাতি তরুণ ফাস্ট বোলার। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত বোলিংয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার। তার গতির কাছেই মূলত পরাস্ত হয়েছে সফরকারীরা। প্রতিপক্ষ গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৮ রানে। ইনিংসের অষ্টম ওভারে প্রথমবার বল হাতে পান নাহিদ। প্রথম বলেই ফুল লেন্থ ডেলিভারিতে বোকা বানান হেনরি নিকোলসকে। দ্রুতগতির বলটি প্যাডে আঘাত হানলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউর নির্দেশ দেন। ঠিক পরের ওভারে আবারও আঘাত হানেন তিনি। এবার তার প্রায় দেড়শ কিলোমিটার গতির এক ভয়ংকর বাউন্সারে বিভ্রান্ত হন উইল ইয়াং। ব্যাকফুটে গিয়ে সামলানোর চেষ্টা করলেও পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। পেসার শরীফুল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদ শুরুর সাত ওভারে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখলেও কোনো উইকেট পাননি। অবশেষে তরুণ এই পেসারই বোলিংয়ে এসে টানা দুই ওভারে দলকে দুর্দান্ত দুটি উইকেট এনে দেন। তার এমন আগুনে বোলিংয়েই জয়ের শক্ত ভিত পেয়ে যায় দল।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে মাঝের ওভারগুলোতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সফরকারী দল। নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস মিলে ৫৬ বলে ৬৬ রানের বিপজ্জনক জুটি গড়েন। মাঝে সৌম্য সরকার এক উইকেট পেলেও দলের চাপ পুরোপুরি কাটেনি। ঠিক তখনই ইনিংসের আঠাশতম ওভারে জাদুকরী এক স্পেল নিয়ে পুনরায় হাজির হন নাহিদ। নিজের দ্বিতীয় স্পেলের তৃতীয় বলে আব্বাসকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান তিনি। তার বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন এই ব্যাটার। ওই স্পেলে তিন ওভার বল করে মাত্র ১০ রান দিয়ে এই উইকেটটি শিকার করেন তিনি। এরপর ম্যাচের একদম শেষদিকে আরও একবার বল হাতে নিজের আসল রূপ দেখান তিনি। শেষ দুই ওভারে ডিন ফক্সক্রফট ও জেডন লেনেক্সকে সাজঘরে পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন। ফক্সক্রফট স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
তার পাঁচ উইকেটের প্রত্যেক বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪১ কিলোমিটারের ওপরে। ডেলিভারিগুলোর গতিবেগ ছিল যথাক্রমে ১৪৭, ১৪৬.৮, ১৪৬.১, ১৪৪.১ ও ১৪১.৬ কিলোমিটার। দেশের কোনো বোলারের ক্ষেত্রে এমন গতির প্রদর্শনী রীতিমতো ‘বিরল’ ঘটনা। এর আগে মিরপুরের মাটিতেই পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ২৪ রান খরচায় পাঁচ উইকেট শিকার করে নজর কাড়েন তিনি। মাঝের তিন ওয়ানডে ম্যাচে অবশ্য চারটি উইকেট পেলেও বেশ খরুচে বোলিং করেছিলেন। তবে গতকাল সব হতাশা পেছনে ফেলে স্বরূপে ফিরেছেন তিনি। নিখুঁত লাইন এবং লেংথ বজায় রেখে তার এই আগ্রাসী পেস কেবল উইকেটই আনেনি, বরং ব্যাটারদের মনে তীব্র ভীতিও সঞ্চার করেছে।
